অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখান আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। সেইসঙ্গে সরকারে কোনো নির্দিষ্ট দলের লোক থাকলে তাদের অপসারণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কনসার্নগুলো জানিয়ে এসেছি। সরকারকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বলেছি। সরকারের মধ্যে কোনো দলীয় লোক থেকে থাকলে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়ে এসেছি।’
এসময় সাংবাদিকরা জানতে চান, কোনো নির্দিষ্ট উপদেষ্টার ব্যাপারে বিএনপি নেতারা কথা বলেছেন কিনা। তবে এ প্রশ্নের জবাব দেননি মির্জা ফখরুল।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে তার বাসভবনে যান বিএনপির তিন নেতা। প্রতিনিধিদলে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আরও ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও বৈঠকে অংশ নেন।
পরে যমুনা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশের নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ করে যে সমস্ত নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে বা পদোন্নতি দেওয়া হবে সেই ক্ষেত্রে একদম নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার কথা আমরা বলে এসেছি। আমরা বলেছি যে বিচার বিভাগে বিশেষ করে হায়ার জুডিশিয়ারিতে এখনো যেসমস্ত ফ্যাসিস্টের দোসর আছেন তাদের সরিয়ে নিরপেক্ষ বিচারকদের দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’
বিষয়টি বিচার বিভাগের আওতাধীন হলেও যেহেতু প্রধান উপদেষ্টা দেশের সবকিছুর দায়িত্বে আছেন, তাই তার কাছেই এসব উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলে জানান মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, বৈঠকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে’ কাজ করার দবি জানানো হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আজকে প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে এসেছিলাম আমাদের কতগুলো রাজনৈতিক কনসার্ন নিয়ে কথা বলার জন্য। বিশেষ করে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেই জাতীয় সংসদ অনুষ্ঠানকে অর্থবহ নিরপেক্ষ সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য এই মুহূর্ত থেকে যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এখন কেয়ারটেকার গভর্নমেন্টের আদল নিতে হবে। অর্থাৎ কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট বলতে আমরা যা বুঝি সেই ভূমিকায় তাদেরকে যেতে হবে। সেজন্য প্রথমেই যে বিষয়টির প্রয়োজন হবে তা হচ্ছে, প্রশাসনকে পুরোপুরিভাবে নিরপেক্ষ করতে হবে।’
‘বিশেষ করে সেক্রেটারিয়েটে যারা এখনো আছেন যাদেরকে চিহ্নিত ফ্যাসিস্টের দোসর বলা হয় তাদেরকে সরিয়ে সেখানে নিরপেক্ষ কর্মকর্তা দেওয়ার জন্য আমরা বলেছি। আমরা বলেছি যে জেলা প্রশাসন বিশেষ করে সেখানেও একইভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং আমরা কিছু কিছু কথা বলে এসেছি যেগুলো আমরা মনে করে যে তারা এখনো সেই ফ্যাস্টিস সরকারের স্বার্থ পূরণ করছে। সেজন্য তাদেরকে অপসারণের কথা আমরা বলেছি।’


