অন্তর্বর্তী সরকারের ফ্যাসিবাদের বাজেট চালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল নিজস্ব অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট প্রণয়ন করা।’
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরশাসনের পতনের পর দেশের মানুষের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে, যা রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে।’
সংঘর্ষমুখী রাজনীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে ভিন্নমত শোনা ও সম্মান করা। বিষোদগার বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ছাড়া কোনো সংস্কার সম্ভব নয়।’
বিপ্লবোত্তর যে দেশ দ্রুত নির্বাচন করেছে, তারা ভালো করেছে; যারা দীর্ঘ সময় নিয়েছে, সেখানে অন্তঃকোন্দল বেড়েছে, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ঐকমত্যের প্রচেষ্টা ভালো উদ্যোগ। আলাদা দর্শন থাকবে, কিন্তু সবাইকে এক জায়গায় আসতে হবে–এটা বাকশালের আদর্শ। চাপিয়ে দেওয়া কোনো পরিবর্তন টেকসই হবে না। অর্থনৈতিক উন্নতি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।’
অর্থনীতি প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময়ে বিনিয়োগ আসেনি, তবে এতে তাদের দোষ নেই। বিনিয়োগের দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। সিরিয়াস ডিরেগুলেশন, লিবারেলাইজেশন ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ছাড়া অর্থনীতি এগোবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের অনেক দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দিতে হবে। ট্রেড বডির হাতে কার্যক্রম হস্তান্তর করে সরকারকে চাপমুক্ত করতে হবে। ফিজিক্যাল কন্ট্রাক্ট না কমালে দুর্নীতি কমবে না। যত বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে, দুর্নীতি তত বাড়বে। অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে হবে এবং তাতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’


