জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে লঘু দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের সাজা বাড়াতে করা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের মুক্তি না দিতে নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।
প্রসিকিউসনের আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেয়। একই সঙ্গে তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কনস্টেবল মো. সুজন মিয়ার বিষয়ে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ স্থগিত করা হয়েছে। আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
এ মামলায় ২৬ জানুয়ারি ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাকি দুজন হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। তাদের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার বাকি পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যেমন, রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছর, আরশাদ হোসেনকে চার বছর এবং কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।
লঘুদণ্ডের বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ স্থগিত চেয়ে পরে আপিল করে প্রসিকিউশন। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা যেন জামিন ও মুক্তি না পান, সে বিষয়ে আর্জি জানানো হয়। ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। সেই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলা দায়ের হয়।
গত বছরের ২০ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এটিই ছিল জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন। ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয়। ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়।


