জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনরত জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের মঙ্গলবারের সমাবেশ থেকে সরকার ‘বিশেষ বার্তা’ দেওয়া হবে। লাখো মানুষের উপস্থিতি ঘটিয়ে সমাবেশকে মহাসমাবেশে রূপান্তর করে দলগুলো সরকারকে তাদের দাবির স্বপক্ষে জনমত বোঝাতে চাচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের নেতারা এসব কথা বলেছেন।
দলগুলোর মধ্যে রয়েছে–জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে–জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় গণহত্যার বিচার এবং আওয়ামী লীগের পাশাপাশি ১৪ দল নিষিদ্ধ করা।
আন্দোলনরত আট দলের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, ঢাকার সমাবেশ থেকে সরকারকে বার্তা দেয়া হবে দেশের মানুষ কী চাইছেন। আশা করছি, সরকার জনগণের ভাষা বুঝবে।
তিনি বলেন, সমাবেশ সফল করতে পুলিশকে অবহিত করাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সমাবেশে সারা দেশে থেকে নয়, ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন। পুরানা পল্টন মোড়কেই সমাবেশের ভেন্যু নির্দিষ্ট করা হয়েছে। দুপুর দুইটায় সমাবেশ শুরু করা হবে।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, বিএনপির কারণে সংস্কার বাস্তবায়ন বিলম্ব হচ্ছে। দলটি সংবিধানের দোহাই দিয়ে সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের বিপক্ষে কথা বলছে।
বিএনপির কাছে তিনি প্রশ্ন করেন- পাঁচ বছর পর পর নির্বাচন করার বিধান সংবিধানে রয়েছে। তাহলে কেন আমরা ২০২৬ সালে নির্বাচন করছি। এ ছাড়া বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তো সংবিধান সম্মত না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি ও গণভোটের বিষয়ে কোনো ছাড় নয়। বিএনপির চাপে সরকার বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপন করছে।
সংবাদ সম্মেলনের আগে জরুরি বৈঠকে বসেন আটটি দলের নেতারা। বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনূস আহমাদসহ আট দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর বৈঠকের পর কর্মসূচি ঘোষণা করে আট দল। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল ৬ নভেম্বর গণমিছিল ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে এবং ১১ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ।
এ ছাড়া প্রায় দুমাসের বেশি সময় ধরে দলগুলো পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনে রয়েছে। এখন চলছে তাদের পঞ্চম দফার কর্মসূচি। মঙ্গলবারের সমাবেশ থেকে ফের কর্মসূচি দেবে দলগুলো।


