বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা কামাল লোহানী একটি আদর্শবাদী, প্রতিবাদী সংগ্রামী নাম; একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা, বহুদর্শী সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। যাঁর নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে আসে সফেদ পাঞ্জাবির সেই মানুষটি। তিনি ছিলেন সর্বান্তকরণে বাঙালি এবং পুরোদস্তুর সংস্কৃতিবান একজন মানুষ। যেকোনো আন্দোলনে, স্লোগানে, প্রতিবাদে তাঁর কণ্ঠই সর্বাগ্রে উচ্চারিত হতো।
তিনি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের যে ঘোষণা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়েছিল, সেটিও তিনিই পাঠ করেছিলেন।
পুরো নাম আবু নঈম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান লোহানী হলেও ‘কামাল লোহানী’ নামেই তিনি সমধিক পরিচিত। পরিবারের সবাই তাকে ‘দুলাল’ নামে ডাকতেন। কামাল লোহানীর জন্ম সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার সনতলা গ্রামে ১৯৩৪ সালের ২৬ জুন। বাবা আবু ইউসুফ মোহাম্মদ মুসা খান লোহানী এবং মা রোকেয়া খান লোহানী। মাত্র সাত বছর বয়সে মাকে হারান তিনি। ফলে বাবা তাকে নিঃসন্তান ফুফুর কাছে কলকাতায় পাঠিয়ে দেন।
সে সময় চলছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকাময় সময়ে তিনি কলকাতার শিশু বিদ্যানিকেতনে ভর্তি হন। পরবর্তীতে দেশবিভাগের পর তিনি ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে পাবনায় এসে ওঠেন ছোট কাকা তাসাদ্দুক হোসেন খান লোহানীর বাসায়। ভর্তি হন পাবনা জিলা স্কুলে। পরবর্তীতে তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন।
ছাত্রজীবনেই কামাল লোহানী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ভাষা আন্দোলনে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে মিছিলে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতির সবক নেন কামাল লোহানী। কামাল লোহানী পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৫৩ সালে ছাত্রসংসদ নির্বাচন এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম সম্মেলনে যোগদান করেন।
১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ৫২’-এর ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রদের হত্যা ও তাদের প্রতি গুলিবর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সর্দার আব্দুর রব নিশতার ও অন্যান্য মুসলিম লীগ নেতা পাবনায় কাউন্সিলে যোগ দিতে এলে তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে অন্যান্যদের সাথে কামাল লোহানীও গ্রেপ্তার হন। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে কাজ করায় আবারও গ্রেপ্তার হন। যুক্তফ্রন্টের জয়লাভে মুক্তি লাভ করেন তিনি এবং ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে রাজশাহীর কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
এ সময়ে পরিবারের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিলে কাকা তাসাদ্দুক লোহানীর কাছ থেকে পনেরো টাকা চেয়ে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং চাচাতো ভাই ফজলে লোহানীর সহায়তায় মাসিক ৫৫ টাকা বেতনে ‘দৈনিক মিল্লাত’ পত্রিকায় সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পাশাপাশি মার্ক্সবাদের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হন।
তিনি ১৯৫৭ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী গঠিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগদান করেন। পরবর্তীতে দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক বার্তাসহ বিভিন্ন পত্রিকায় যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি সাংবাদিক নেতা হিসেবেও তিনি সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যুক্ত থেকেছেন সবসময়। তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট (১৯৭৩) এবং পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক (সাংবাদিক ইউনিয়ন)-এর সাধারণ সম্পাদকের (১৯৭০) দায়িত্বও পালন করেন এবং ১৯৭৪ সালে সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হন। ইউনিয়নের কাজে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দেন।
১৯৭৩ সালে দৈনিক জনপদে যোগ দেন। ১৯৭৪-এ বঙ্গবার্তা এবং দৈনিক বাংলার বাণীতে সাংবাদিকতা করে ১৯৭৭ সালে দৈনিক বার্তায় যোগ দেন এবং ১৯৭৮ সালে ওই পত্রিকারই সম্পাদক হন। ১৯৮১-তে জাম্বিয়ার রাজধানী লুসাকায় কমনওয়েলথ রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মেলনে যোগদানের কথা ছিল কামাল লোহানীর। কিন্তু সরকার তাকে নির্দেশ দেয়, লম্বা পাঞ্জাবি-পাজামা ছেড়ে ইংলিশ স্যুট পরে যেতে হবে।
কামাল লোহানী তাতে রাজি হননি, ফলে তার সফর বাতিল হয়। সারাজীবন বাঙালি পোশাক পরা কামাল লোহানী বিদেশ সফর বাতিল করেছেন, কিন্তু বাঙালিত্বের প্রশ্নে আপস করেননি। এ সময়ে সরকারের সঙ্গে মতবিরোধ হলে দৈনিক বার্তা ছেড়ে তিনি বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটে (পিআইবি) যোগদান করেন। ১৯৯১-এ তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ২০০৯-এ আবার তাকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কামাল লোহানীর নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল। তিনি বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে গুরু জিএ মান্নানের কাছে নৃত্যের প্রশিক্ষণ নেন। ১৯৫৯-এ নৃত্যনাট্য নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশ সফর করেন। ১৯৬১-তে পাকিস্তান সাংস্কৃতিক দলের সদস্য হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যান এবং ইরাক, ইরান সফর করেন। এ সময়ে নৃত্যগুরু জিএ মান্নানের প্রযোজনায় ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ নৃত্যনাট্যে অংশ নেন। ১৯৬১-তে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনে বাধা এলে প্রগতিশীল সংস্কৃতিকর্মীরা নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এসময়ে ‘শ্যামা’ নৃত্যনাট্যে তিনি বজ্রসেনের ভূমিকায় নেচে বিপুল দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেন।
১৯৬২ সালে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় ১৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। এ সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের ২৬ নম্বর সেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, আবুল মনসুর আহমদ, রণেশ দাশগুপ্ত, তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, অধ্যাপক রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন। সাড়ে তিন মাস পর তিনি মুক্তি লাভ করেন।
১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ছায়ানট’-এর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ছায়ানটের সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’ নামে একটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন গঠন করেন। ‘ক্রান্তি’ সেসময়ে অসংখ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিপুল সাড়া জাগিয়েছিল। ১৯৬৮-তে পাকিস্তানের তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন পার্লামেন্টে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে কটূক্তি করলে ছায়ানট, ক্রান্তি, সৃজনি, বুলবুল একাডেমিসহ বেশ কিছু সংগঠন মিলে ‘সাংস্কৃতিক স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা পরিষদ’ গঠন করে। ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে এই পরিষদেরও যুগ্ম আহ্বায়ক হন কামাল লোহানী। উনসত্তরের গণ-আন্দোলনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০-এ মিউজিক কলেজের সংগীত সম্মেলনে তিনি সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন।
গণসংগীত গণমানুষের দাবি আদায়ে তাদের মনে প্রেরণা সঞ্চারে অপরিমেয় শক্তির জোগান দেয়। কামাল লোহানী সময়ের প্রয়োজনে অসংখ্য গান সংগ্রহ করেছেন এবং গুণী সুরকারদের দিয়ে সুর করিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে শেখ লুতফর রহমান তাঁর ‘জীবনের গান গাই’ গ্রন্থে লিখেছেন: ‘…লোহানী নতুন নতুন সংগ্রামী গান প্রায়ই আমার কাছে নিয়ে আসতো।
আমি সেগুলো সুর করে গাইতাম। অন্যদের দিয়েও গাওয়াতাম। …চারদিকে তখন নানা রকমের সরকারি বাধা আর বিধি-নিষেধের পর বিধি-নিষেধ। এইসব নিষেধের বেড়াজাল ভাঙবার জন্য উদ্দীপনামূলক একটা গান খুবই জরুরি হয়ে পড়েছিল। কামাল লোহানীই এলেন একটি গান নিয়ে আমাদের সেই আশা পূরণে। খুশি হয়ে জানতে চাইলাম কার লেখা? লোহানী উত্তর দিলেন আমাদের দেশেরই কারো হবে। পরে লোহানী বললো গানটি সলিল চৌধুরীর হলেও আমাদের প্রয়োজন তো মিটলো।’
আবার সিকান্দার আবু জাফর রচিত কবিতা ‘জনতার সংগ্রাম চলবে’ ইত্তেফাকে প্রকাশিত হলে সেটি কামাল লোহানী শেখ লুতফর রহমানের কাছে নিয়ে যান সুর করাতে। এই গানের কথা পড়ে প্রথমে তিনি সুর করতে চাননি, কিন্তু কামাল লোহানীর পীড়াপীড়িতে শেখ লুতফর রহমান বাধ্য হন সুর করতে। সেদিনের সুরকৃত গানটি আজও সমানভাবে জনপ্রিয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বেশ কিছু গানও তিনি সংগ্রহ করে সুর করিয়েছেন গুণী সুরকারদের দিয়ে।
১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে কামাল লোহানী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৭২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলে তিনি তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ধারাবিবরণী পাঠ করেন।
কামাল লোহানী ১৯৭২-এ শহীদ আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যায়তনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৬৭-তে গঠিত ক্রান্তির কার্যক্রম কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে গেলে ১৯৮৩-তে ‘বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থা’ নামে আরেকটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন এবং এই সংগঠনের মাধ্যমে দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি হিসেবে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৯-এ তিনি ‘নবনাট্য সংঘ’ নামে একটি নাট্যদলও প্রতিষ্ঠা করেন। কামাল লোহানী চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিড়ম্বনা, অর্পিত সম্পত্তি সম্পর্কিত ক্রিয়াকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলায় জাতীয় কমিটিরও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কামাল লোহানী সম্পর্কে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ ওয়াহিদুল হক লিখেছেন: ‘কামাল লোহানীর মধ্যে কোনোসময়েই মধ্যবিত্তসুলভ বিচ্যুতি দেখিনি। বিপ্লবে বিশ্বাসী বলে চাউর এমন বহু সুবিধাবাদীকে দেখেছি, দেখেছি বিপ্লবী চেহারা এবং কথাবার্তা বেচে খেতে বহু মানুষকে। হাঁস যেমন ময়লা জলেও সহজে বিহার করে, পঙ্কিল না হয়ে, লোহানীকে দেখেছি পরমহলের মতো সংসারের আবিল আবর্তে অনাবিল চলে যেতে।’
বিশিষ্ট সাংবাদিক নির্মল সেন কামাল লোহানী সম্পর্কে লিখেছেন: ‘কামাল লোহানীকে শেখ সাহেব দারুণ ভালোবাসতেন। তবে নীতির প্রশ্নে কামাল লোহানী বরাবরই আমার সঙ্গে। শেখ সাহেবের সাথে আমার বিতর্ক হতো। শেষ পর্যন্ত শেখ সাহেব বলতেন কিরে কামাল লোহানী তোর দাদা কি বলেরে? লোহানী বলতো দাদা যা বলেছে তাই ঠিক। লোহানী না শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন বাকশালের প্রশ্নে।’
সেসময়ে প্রায় সব সাংবাদিক বাকশালে যোগদান করলেও নির্মল সেন এবং কামাল লোহানী বাকশালে যোগ দেননি।
সাংবাদিকতা, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাশাপাশি কামাল লোহানী বেশ কিছু গ্রন্থও রচনা করেছেন। সেগুলি হলো–আমরা হারবো না, আমাদের সংস্কৃতি ও সংগ্রাম, লড়াইয়ের গান, সত্যি কথা বলতে কী, যেন ভুলে না যাই, মুক্তি সংগ্রামে স্বাধীন বাংলা বেতার, রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনবাংলা বেতার, মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার, এদেশ আমার গর্ব, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও নৃত্যশিল্পের বিকাশ, দ্রোহে প্রেমে কবিতার মত, শব্দের বিদ্রোহ।
প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ফতেহ লোহানী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ফজলে লোহানী এবং প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হুসনা বানু খানম তার চাচাতো ভাইবোন।
ব্যক্তিজীবনে কামাল লোহানী ১৯৬০ সালে চাচাতো বোন দীপ্তি লোহানীকে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সাগর লোহানী, মেজো মেয়ে বন্যা লোহানী এবং ছোট মেয়ে ঊর্মি লোহানী।
তিনি বিভিন্ন সময়ে ক্রান্তি পদক (২০০৩), ঋষিজ পদক (১৯৯৫), বাংলা একাডেমি সম্মাননাসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০১৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের ২০ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
কলামিস্ট, আবৃত্তিকার, ধারাভাষ্যকার, নৃত্যশিল্পী, অনুষ্ঠান সংগঠক কামাল লোহানী মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কমিউনিস্ট ধারায় বিশ্বাসী ছিলেন। সারাজীবন মানুষের অধিকার আদায়ের পক্ষে সংগ্রাম করে গেছেন; কারও কাছে মাথানত করেননি কোনোদিন। সবসময়েই তিনি সাহসী যোদ্ধার ভূমিকা পালন করেছেন। অতিবাহিত করেছেন এক বর্ণাঢ্য জীবন। তাইতো হেমাঙ্গ বিশ্বাসের ভাষায় বলতে হয়— ‘আরও বসন্ত বহু বসন্ত তোমার নামে আসুক, তুমিতো সূর্য অস্তবিহীন চির জাগরুক।’
২৬ জুন তার ৯৩তম জন্মদিনে বলতে চাই–কামাল লোহানী চিরজাগরুক থাকুক আমাদের সবার হৃদয়ে।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সংগীত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা


