যুক্তরাষ্ট্রের জিও রেইনা, ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস জুনিয়র, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন–বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে এদের সবার চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স আর গোলবন্যার পেছনে মিল কোথায়? উত্তরটা মাঠের কোনো কৌশল নয়, উত্তরটা হলো এক বিশেষ রঙ গোলাপি।
উত্তর আমেরিকায় চলমান এই বিশ্বকাপের মঞ্চে রঙধনুর সব রঙের মেলা থাকলেও, ফুটবলের এই মহাযজ্ঞে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে গোলাপি রঙের বুট। মাঠের সবুজ ঘাসের ওপর স্পষ্টভাবে নজরে পড়ে, এমন গোলাপি বুট পরে খেলছেন ডজন ডজন তারকা ফুটবলার। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কার্যকারিতা এবং দৃশ্যমানতা–উভয় দিক বিবেচনা করে বেশ কয়েকটি জুতো প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এগুলো তৈরি করেছে।
নাইকির গ্লোবাল ফুটওয়্যারের পরিচালক ওদিঙ্গা নিমাকো জানান, অ্যাথলেটরা এই রঙটিকে আত্মবিশ্বাস এবং আলাদাভাবে নিজেকে ফুটিয়ে তোলার প্রতীক হিসেবে দেখছেন, যা দারুণ সাড়া ফেলেছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নাইকির রুপালি, হলুদ ও নীল রঙের বুট যেভাবে চেনা দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল, এবার গোলাপি রঙ যেন সেই বিপ্লবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এবার নাইকি, অ্যাডিডাস, পুমা, স্কেচার্স এবং নিউ ব্যালেন্স–সব নামী ব্র্যান্ডই বাজারে এনেছে গোলাপি বুট। এমবাপ্পে, ভিনিসিয়াস, রোনালদো কিংবা হালান্ডের পায়ে যেমন রয়েছে নাইকির বুট; তেমনই রেইনা, বেলিংহাম, রাইস, ইয়ামাল ও দেম্বেলে মাঠ মাতাচ্ছেন অ্যাডিডাস পরে। আবার হ্যারি কেইন খেলছেন স্কেচার্স পরে। স্কেচার্সের টেকনিক্যাল পারফরম্যান্সের পরিচালক অ্যালেক্স বারদিনি জানান, এই বুটের মূল অনুপ্রেরণা এসেছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সদর দপ্তর থেকে, যা মূলত লস অ্যাঞ্জেলেসের সূর্যাস্তের মনোরম রূপকে ফুটিয়ে তোলে।
বিশ্বকাপের ট্রফি কার ঘরে যাবে তা নির্ধারণ হওয়ার অনেক আগেই গোলাপি রঙ যে একটি বড় বিজয়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, তা স্পষ্ট। মেক্সিকোর মনটেরিতে তিউনিসিয়ার জালে যখন সুইডেন ৫ গোল জড়াল, তার মধ্যে তিনটি গোল এসেছে গোলাপি বুট পরা ইয়াসিন আইয়ারি ও মাতিয়াস সভানবার্গের পা থেকে।
গোলাপি রঙের কারণে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স রাতারাতি ভালো হয়ে যায় না সত্যি, তবে প্রস্তুতকারক কোম্পানির কর্তারা এটিকে একটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার হিসেবে দেখছেন। হালকা ওজন, পায়ে একদম সেঁটে থাকার দারুণ অনুভূতি এবং গতিশীল ডিজাইন খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস মাঠের ভেতর অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে খেলায়।


