কাগজে-কলমে এবারের বিপিএলের সেরা দলগুলোর একটি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দেশি-বিদেশি তারকা মিলিয়ে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দলই গড়েছে তারা। মাঠের খেলাতেও রেখেছে প্রমাণ, কোয়ালিফায়ারে উঠেছিল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে। কিন্তু মঙ্গলবার প্রথম কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রাম রয়্যালসের কাছে হারায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে দুই দল।
এদিকে একই দিনে এলিমিনেটরে শেষ বলে দারুণ এক থ্রিলার জিতে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে সিলেট টাইটান্স। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ১১১ রান তাড়ার ম্যাচ গড়িয়েছে শেষ বলে। জয়ের জন্য ৬ রান লাগত তাদের, তিন দিন আগে ইংল্যান্ড থেকে উড়ে আসা ক্রিস ওকসের দারুণ ছক্কায় নিশ্চিত করে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার।
ডাবল রাউন্ড রবিন ফরম্যাটের গ্রুপ পর্বে দুইবারের দেখায় দুইবারই মেহেদী হাসান মিরাজের সিলেটকে হারিয়েছে রাজশাহী। এদিক থেকে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবেন রাজশাহীর নাজমুল হোসেন শান্তরা।
পুরো টুর্নামেন্টে কোয়ালিফায়ার-সহ মাত্র তিনটি ম্যাচ হারা নিয়ে চিন্তিত নয় রাজশাহী ক্যাম্প। অধিনায়ক শান্তও তাই মন দিতে চান ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের মঞ্চেই। এই বাঁহাতি ব্যাটার বলেন, ‘আপনি যদি পুরা টুর্নামেন্টটা দেখেন আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছি আলহামদুলিল্লাহ। আমি মনে করি যে আমাদের দলটা যেভাবে খেলছে আমি আশা তো করতেই পারি যে আমরা কালকে একটা ভালো ক্রিকেট খেলে ভালো ম্যাচ উপহার দিব।’
দলটায় আছেন জিমি নিশাম, সাহিবজাদা ফারহান, রায়ান বার্ল, সন্দীপ লামিচানের মতো বিদেশি তারকারা। এর সাথে বুধবার সকালে দলের সাথে যোগ দিয়েছেন সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন। দেশি তারকারা তো আছেনই, সাথে উইলিয়ামসনের সংযুক্তিও তাদের ব্যাটিং অর্ডার আরো শক্তিশালী করবে।
সিলেট প্লে অফে উঠেছিল পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে। এলিমিনেটরে তারা হারিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল রংপুর রাইডার্সকে। ক্রিস ওকসের সাথে মঈন আলীর মতো বিদেশি তারকা যেমন আছেন, খালেদ আহমেদ-পারভেজ হোসেন ইমনের মতো দেশি পারফর্মাররাও আছেন।
তবে ম্যাচের এক্স ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট। প্লে অফের প্রথম দুই ম্যাচই হয়েছে লো স্কোরিং। প্রথম ম্যাচে সিলেট তাড়া করেছে রংপুরের ১১১, দ্বিতীয় ম্যাচে রাজশাহীর ১৩৪ চট্টগ্রাম ছুঁয়েছে শেষ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করে। জানুয়ারির সন্ধ্যা বলে শিশিরেরও বিশাল প্রভাব আছে ম্যাচে। শিশির ভিজে বল ভারী হয়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায় নিয়মিত আকারও। আর উইকেট স্লো হওয়াতে বাউন্সও থাকছে লো।
লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত থেকে শুরু করে শেখ মাহেদী সবাই ঢালাও সমালোচনা করেছেন মিরপুরের এমন উইকেটের। তাদের সকলেরই চাওয়া, যেন টি-টোয়েন্টি সূলভ উইকেটে খেলা হয়। যদিও বাস্তবতা বলছে টুর্নামেন্টের বাকি দুই ম্যাচেও সহসাই বদলাচ্ছে না উইকেট। এমন লো বাউন্সের উইকেটেই লড়তে হবে শিরোপার জন্য।


