ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে বিএনপি। শুক্রবার বিকাল থেকে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে দলটির মনোনয়ন বোর্ড।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হতে যারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন, তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গঠিত মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা, অর্থাৎ স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরাই এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন।’
প্রথম দিনে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। এদিন ৪০০-এর বেশি প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন বলে জানান রিজভী। শনিবার বিকাল ৩টা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু হবে।
এর আগে, গত বুধবার নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। এ নিয়ে আপত্তি থাকলে ২৬ এপ্রিল আপিল করা যাবে এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন বণ্টনে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াতে ইসলাম জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা পাবে ১টি আসন।
শুক্রবার দুপুর দেড়টা থেকে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা জড়ো হন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা শুধু প্রার্থীদেরই ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন। ভেতরে প্রার্থীদের বসার জন্য নির্দিষ্ট স্থান রাখা হয়েছে।
নারী প্রার্থীদের যোগ্যতার বিষয়ে রিজভী বলেন, ‘গত ১৫ থেকে ১৬ বছরের আন্দোলনে নারীদের অবদান মূল্যায়ন করা হবে। অনেক নারী নেত্রী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, হামলার মুখে পড়েছেন এবং নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।’ পাশাপাশি সংসদে কথা বলা ও আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও শিক্ষাগত যোগ্যতাও দেখা হবে। সবকিছু বিবেচনা করেই চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি জানান।


