জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের রায় ঘোষণার জন্য সোমবার বেলা ১১টায় বসবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
রায় ঘোষণা সরাসরি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সম্প্রচার করা হবে।
বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করবেন। অন্য দুই বিচারক হলেন, মোহাম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ ও মোহাম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বাকি দুই আসামি হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি পরবর্তীতে রাজসাক্ষী হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম বলেন, ‘বেলা ১১টায় ট্রাইব্যুনাল বসবে বলে রেজিস্ট্রার অফিস থেকে জানানো হয়েছে।’
‘আমরা আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি এবং সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছি। সোমবার রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। সেই সঙ্গে বিটিভি থেকে দেশের অন্য টেলিভিশন তা সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে। এ ছাড়া বিটিভি থেকে রয়টার্স সরাসরি রায়টি সম্প্রচার করবে বলেও জানা গেছে।’
এমনকি ঢাকায় বড় পর্দায় কয়েকটি স্থানে সরাসরি রায় ঘোষণা দেখানো হবে বলেও জানান তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় পাঁচটি অভিযোগ এনে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন প্রসিকিউশন। অন্যদিকে, আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছেন তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। এছাড়া রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের খালাস চেয়েছেন তার আইনজীবী।
এ মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস এইচ তামিম শুনানি করেন। এ ছাড়া, শুনানিতে প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মোহাম্মদ আমির হোসেন। রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
গত ১০ জুলাই এ মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ে এবং ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ১০ জুলাই পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়, যার মধ্যে ছিল সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া এবং রংপুর, ঢাকা ও আশুলিয়ায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা।
শুরুতে শুধু শেখ হাসিনাই ছিলেন এই মামলার একমাত্র আসামি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার অপসারণের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর মামলাটি করা হয়। পরে চলতি বছরের ১৬ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল সাবেক আইজিপি মামুনকে সহআসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


