২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও খাতে কর, শুল্ক ও ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকায় বেশ কিছু ভোগ্যপণ্য, আমদানিনির্ভর পণ্য এবং বিলাসী সামগ্রীর দাম বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার কিছু পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট প্রস্তাবে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা ও উৎসাহ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে কর রেয়াত, ভ্যাট অব্যাহতি ও আমদানি সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও আমদানিনির্ভর ও বিলাসবহুল পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের মূল্যসীমা ৬২ টাকা করা হচ্ছে।
দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও ব্যয় বাড়তে পারে। কারণ দেশি মদ ও বিয়ার উৎপাদনে লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা নির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের মূল্য বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আমদানিনির্ভর খাদ্যপণ্যের মধ্যে কাজুবাদামের দামও বাড়তে পারে। কারণ এর আমদানি শুল্ক বর্তমান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে তাজা, ঠান্ডা ও হিমায়িত মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব থাকায় বিদেশি মাছের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।
নির্মাণ খাতেও বাজেটের প্রভাব পড়তে পারে। এমএস রড ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে কর ও ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। রড তৈরির কাঁচামাল স্ক্র্যাপ শিটের ওপর টনপ্রতি ৩০০ টাকা এবং এমএস পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৪০০ টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পর নতুন এই কর কাঠামো নির্মাণসামগ্রীর বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
বিদেশি প্রসাধনী, উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্য এবং বিভিন্ন বিলাসী আমদানি পণ্যের ওপরও অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। নতুন করে অন্তত ১০ ধরনের পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট বসানো হতে পারে। ফলে এসব পণ্যের দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিবহন ও সেবাখাতেও প্রভাব পড়তে পারে। হেলিকপ্টারের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা উৎসে কর আরোপের প্রস্তাব থাকায় হেলিকপ্টার সেবার ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বাস পরিবহনের অগ্রিম আয়কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় গণপরিবহনের ভাড়ার ওপরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কর ও শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছালে কয়েকটি খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে।


