বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, দেশের অর্থনীতি লুট ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠীকে আবারও আর্থিক খাতে প্রভাবশালী করার চেষ্টা চলছে। তাদের হাতেই ইসলামী ব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১১ দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সরকারের ভেতরের একটা গ্রুপ, যারা দেশের অর্থনীতি লুট করেছে, অর্থ বিদেশে পাচার করেছে এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বিনিয়োগের নামে ঋণ নিয়েছে, এসব আন্তর্জাতিক লুটেরাদের ফিরিয়ে এনে ইসলামী ব্যাংক তাদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি ব্যাংকের বিষয় নয়, বিশ্ব ইসলামী অর্থনীতির একটি মডেলকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। ইসলামী ব্যাংক দখল করে পুরোনো দখলদারদের হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা হতে দেওয়া হবে না। আগের মতো গ্রাহকরা বসে থাকবে না। তারা তাদের আমানত ও ইসলামী অর্থনীতির মডেল রক্ষায় এগিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরও সেই প্রত্যাশা পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে শাহজাহান বলেন, হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বাড়ছে।
তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও জবাবদিহির সংকট জনজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শাহজাহান বলেন, জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান চালিকাশক্তি। তাই বন্দর পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে-টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাজেট-পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান শাহজাহান। পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা বন্ধ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় করার আহ্বানও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলের চট্টগ্রামের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


