ইরান যুদ্ধে ‘নিরপেক্ষ’ অবস্থান নেওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টায় বেইজিং কিংবা মস্কো বাধা দেননি।
জিনপিং ও পুতিনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে তিনি বলেন, ‘তারা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলেননি। আমি শুধু তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তারা বিষয়টি অনেক সহজ করে দিয়েছে।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বুধবার ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন সম্মেলনে অংশ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তার সঙ্গে ছিলাম, তিনি পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিলেন এবং আমি তা প্রশংসা করি। একইভাবে আমি ভ্লাদিমির পুতিনকেও ধন্যবাদ জানাই, তিনিও ছিলেন খুবই নিরপেক্ষ। তারা বিষয়টিকে আমাদের জন্য আরও কঠিন করে তোলেননি।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ট্রাম্পের মিত্রদেশগুলোর প্রতি কটাক্ষ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিকবার ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বাদ যায়নি জাপানের মতো শক্তিশালী এশিয়ান মিত্রও।
সে হিসেবে প্রকাশ্য বৈরিতা রাখা চীন ও রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের নমনীয় হওয়াকে নতুন কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মস্কো ও বেইজিং উভয়ই তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে। এর আগে রাশিয়া বলেছে, এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতর্কিত হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল চীন।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, চীন ইরানকে এমন কিছু পণ্য সরবরাহ করেছে যেগুলো সামরিক কাজে ব্যবহার হতে পারে। এ ছাড়া চীনের স্বাধীন তেল পরিশোধনকারীরা এই সংঘাত চলাকালে ইরানের প্রধান ক্রেতা হিসেবে কাজ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত উপেক্ষা করেছে।
তবে ট্রাম্প বলেন, ‘শি জিনপিং সংকট সমাধানে সহায়ক ভূমিকা রেখেছেন এবং বড় ধরনের অস্ত্র বা কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো থেকে বিরত ছিলেন।’
‘তারা চাইলে তেলের একটি জাহাজ ছয়টি ডেস্ট্রয়ার দিয়ে ঘিরে পাঠাতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। প্রেসিডেন্ট শি আমাকে সহায়তা করেছেন। তিনি সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন, এবং আমি মনে করি তিনি সম্ভবত সমস্যার সমাধানে সহায়তা করেছেন।’
এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, তাদের অবস্থান ‘সবসময় একই’ এবং তারা সংঘাতের অবসান ও শান্তির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।


