উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাতে (ইসিএ) নির্মাণ করা হচ্ছে উড়োজাহাজ আকৃতির একটি অস্থায়ী স্থাপনা।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ইসিএ এলাকায় কোনো স্থায়ী কিংবা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৈকতে স্থাপিত নির্দেশিকা বোর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ‘সৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের ভ্রাম্যমাণ দোকান ও স্থাপনা বসানো সম্পূর্ণ নিষেধ। আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এরপরও বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দেখা যায়, বালিয়াড়ির ওপর প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থের উড়োজাহাজ আকৃতির একটি অস্থায়ী স্থাপনার নির্মাণকাজ চলছে।
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন নির্মাণকাজ চলছে, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে টাইমস প্রতিবেদকের হাতে আসে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার) আজিম খানের সই করা একটি অনুমতিপত্র।
সেখানে গত ১৭ ডিসেম্বর ব্র্যান্ড সলিউশন লিমিটেড নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সুগন্ধা পয়েন্টের উত্তর পাশে অনুষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়।
অনুমতিপত্রে ‘অনুষ্ঠান পরিচালনা/পয়েন্ট’ শিরোনামের কলামে দুই নম্বর ক্রমিকে পাঁচ ফুট বাই ছয় ফুট আকারের একটি ক্ষুদ্র এলইডি প্রদর্শনী এবং এক নম্বর ক্রমিকে ফটোবুথের কথা উল্লেখ থাকলেও ওই অস্থায়ী স্থাপনার দৈর্ঘ্য বা প্রস্থ সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এ ছাড়াও অনুমতিপত্রে উল্লেখিত ১৬টি শর্তের মধ্যে এক নম্বর শর্তে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়, এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে।
আট নম্বর শর্ত হলো–জনসাধারণের চলাচলে অসুবিধা সৃষ্টি করে এমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
এ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘ইসিএ এলাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সৈকতের বালিয়াড়িতে স্থায়ী বা অস্থায়ী যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে এই নির্মাণকাজ চলছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।’
সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক মোস্তফা বলেন, ‘এমনিতেই সৈকতে মানুষের ভিড় বেশি। তার ওপর একেবারে বিচের মাঝখানে বিমানের মতো কিছু একটা বানানো হচ্ছে। সৈকত উন্মুক্ত থাকার কথা, এই দৃশ্য বিব্রতকর।’
নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ইরশাদুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘এটি একটি অ্যাক্টিভেশন বা প্রচারণার কাজ। প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অপারেশন ম্যানেজার রিপন বিশ্বাস বিস্তারিত বলতে পারবেন।’
রিপন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন নম্বর চাইলে তিনি ‘দেখছি’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। আইনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না। যদি কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকে তার বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে একাধিকবার ফোন করা হলেও অনুমতি প্রদানকারী পর্যটন ম্যাজিস্ট্রেট আজিম খান ফোন রিসিভ করেননি।


