ভারতীয় সাংবাদিকদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের করা একটি মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া।
মঙ্গলবার সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নীরাজ ঠাকুরের সই করা এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিন্দা জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল মুখপাত্র শফিকুল আলম ১১ নভেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রতি শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশের বিষয়টি টেনে বলেন, যে সাংবাদিকরা এসব সাক্ষাৎকার প্রচার করছেন তারা “পশ্চিমা সাংবাদিক এবং তাদের ভারতীয় চাটুকার সহযোগী”।’
শফিকুল আলম নিজে একজন সাবেক সাংবাদিক হয়েও কীভাবে এই ধরনের নিন্দনীয় বক্তব্য দিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সাংবাদিক নেতারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পেশাদার গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে প্রকাশিত সত্য তথ্য প্রকাশকে “চাটুকারিতা” বলে অভিহিত করা কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির আচরণ হতে পারে না।’
এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শফিকুল আলমকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া।
Press Club of India condemns the official spokesperson of the Chief Adviser of Bangladesh’s government, Shafiqul Alam’s remarks for calling reporters from several outlets in India and abroad who recently interviewed former Bangladeshi prime minister Sheikh Hasina as “Western… pic.twitter.com/t01hVsDleR
— Press Club of India (@PCITweets) November 11, 2025
এর আগে দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শফিকুল আলম।
উগান্ডার নির্বাসিত রাষ্ট্রপ্রধান ইদি আমিনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘নিজের জনগণের ওপর হত্যাযজ্ঞের পর, ইদি আমিন ১৯৭৯ সালে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। ২০০৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই নীরবে বসবাস করেন। নির্বাসনে থাকাকালীন তিনি কোনো সাক্ষাৎকার দেননি এবং খুব কম সময়ই নিজের বাসভবন থেকে বের হতেন। এর কারণ তিনি ছিলেন নিঃস্ব এক সাবেক স্বৈরশাসক। নির্বাসিত, ক্ষমতাহীন ও টাকা-পয়সা না থাকা একজন গণহত্যাকারীর সাক্ষাৎকার নিতে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমেরও কোনো আগ্রহ ছিল না।’
‘শেখ হাসিনার হাতেও রক্ত লেগে আছে। তিনি হাজারো মানুষকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন, প্রায় চার হাজার মানুষকে গুম করেছেন এবং তার ঘনিষ্ঠদের সহায়তায় ব্যাংক লুটপাটে তদারকি করেছেন। ইদি আমিনের মতো তিনিও শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। তবে তার ক্ষেত্রে গন্তব্য ছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু আমিনের মতো হাসিনা নির্বাসনে থেকে নীরবতা পালন করছেন না।’
ইদি আমিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার পার্থক্য হিসেবে অর্থের অভাব না থাকার কথা উল্লেখ করেন শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, ‘হাসিনার কাছে টাকার কোনো অভাব নাই— যা দিয়ে তিনি বৈশ্বিক প্রচারণা চালাতে এবং অভিজাত আইনজীবী দলগুলোকে অর্থায়ন করতে পারছেন। তার সহযোগীরা বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ল ফার্মগুলোর একটি ভাড়া করেছে আর তার পিআর এজেন্সিগুলো একের পর এক সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করেছে, যা সুবিধামতো ইমেইলের মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে।’
এখানেই ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রসঙ্গ টানেন প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, ‘পশ্চিমা সাংবাদিকরা এবং তাদের ভারতীয় চাটুকার সহযোগীরাও নিশ্চিত নন যে সেই উত্তরগুলো সত্যিই হাসিনার কাছ থেকে আসছে নাকি তার জনসংযোগ কর্মকর্তাদের লিখে দেওয়া! তবুও তারা এই তথাকথিত ইমেইল সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে চলেছে, হাসিনার নিজের বর্ণনাকে টিকিয়ে রাখতে ব্যয় করা কোটি টাকার সৌজন্যে।’
আগামী কয়েক সপ্তাহে হাসিনার আরও কিছু ইমেইল সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেগুলো প্রবল উৎসাহে ছড়িয়ে দেবে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও ভারতীয় সহযোগীরা। এর কোনোটাই গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নাই। এসবে যা লেখা থাকবে তার সবটাই মিথ্যা, কোনো অনুশোচনাও থাকবে না। এগুলো কোটি ডলারের পিআর এজেন্সির ফসল, যার উদ্দেশ্য হলো এক গণহত্যাকারীকে মানবিক রূপে উপস্থাপন করা।’


