নারী শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিন

নারী শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিন
তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন নারী শ্রমিক। ছবি: অনিক রহমান
Advertisement
Advertisement

নারী শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিন করে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। একই সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, উৎসব ছুটি, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে সংসদে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

এর মাধ্যমে গত ১৭ নভেম্বর জারি করা ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলো।

নতুন আইনে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে শতকরা হারের শর্ত রাখা হয়নি। এখন থেকে সর্বনিম্ন ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ইউনিয়ন গঠনের আবেদন করা যাবে।

নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন, অর্থাৎ চার মাস করা হয়েছে। এ ছাড়া, বার্ষিক উৎসব ছুটি ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিন করা হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, ১০০ বা তার বেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছে–এমন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিকের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ তহবিল গঠন অথবা জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রগতি স্কিমে অংশগ্রহণের বিধান থাকবে।

আরও পড়ুন

কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা ও জেন্ডার সমতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো ‘যৌন হয়রানি’র সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নারী প্রধান অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই কাজে নারী ও পুরুষের মজুরি বৈষম্যও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গৃহকর্মী, কৃষি শ্রমিক ও নাবিকদের শ্রম আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতায় এনে তাদের অধিকারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন এবং যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি মনোনয়নের বিধানও রাখা হয়েছে।

আইনে জাতীয় পর্যায়ে শ্রম আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় সামাজিক সংলাপ ফোরাম গঠন এবং শ্রমবিরোধ নিষ্পত্তিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কর্তৃপক্ষ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী নাবিকের সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হয়েছে। শ্রমিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যায়ভাবে ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ করাকে অসৎ শ্রম আচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বিলটি পাসের সময় অধিবেশনে জানানো হয়, এই আইন পাস হওয়া শুধু একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের প্রতিফলন।

এতে আরও বলা হয়, আইনটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মানদণ্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার ধরে রাখা এবং জিএসপি প্লাস সুবিধা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের বৃহত্তম একক রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রের ১১ দফা বাস্তবায়নেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। সরকারের প্রত্যাশা, আইনটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পোশাক খাতসহ সামগ্রিক শিল্পে স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad