ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশ সফর করে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া এবং নিরাপদ দাফন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানোম গেব্রেয়াসুস।
শনিবার কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশ সফরকালে তিনি বলেন, প্রাণঘাতী এই রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত চিকিৎসা ও সংক্রমণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব এবং ভাইরাসটি আবিষ্কারের পর গত ৫০ বছরে দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম সংক্রমণ পরিস্থিতি। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার গতি বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের চেয়ে দ্রুত—চলতি সপ্তাহেই এ কথা জানান টেড্রোস।
বৃহস্পতিবার রাজধানী কিনশাসায় পৌঁছানোর পর তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ পেয়েছে।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী জুডিথ সুমিনওয়া তুলুকার সঙ্গে বৈঠকের পর শনিবার টেড্রোস যান ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায়, যেখানে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে টেড্রোস বলেন, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া বিরল বান্ডিবুগিও স্ট্রেইন–এর জন্য অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে রোগীকে দ্রুত বিচ্ছিন্ন রাখা (আইসোলেশন), শরীরে তরল সরবরাহ এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণের মতো প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, “দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জীবন বাঁচাতে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।”
একইসঙ্গে ইবোলা আক্রান্তদের মরদেহ অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় নিরাপদ দাফন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
টেড্রোস বলেন, “প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং সম্মানজনকভাবে দাফনের গুরুত্ব আমি বুঝি। কিন্তু নতুন প্রাণহানি ঠেকাতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।”
কঙ্গোতে ইতোমধ্যে কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবার প্রচলিত পদ্ধতিতে দাফনের জন্য মরদেহ নিতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসব দাফন প্রক্রিয়ায় অনেক সময় সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া মরদেহ স্পর্শ করা হয়, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
ডব্লিউএইচও শুক্রবার জানিয়েছে, কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৯০৬টি সন্দেহভাজন ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং ২২৩টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল রজার কাম্বা জানান, শনাক্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮-এ পৌঁছেছে এবং ২২৫টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা মেডিসিনস সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপ পর্যাপ্ত নয়। সংস্থাটির দাবি, প্রাদুর্ভাব ঘোষণার এত দ্রুত সময়ের মধ্যে এত বেশি সংক্রমণ আগে দেখা যায়নি।
এমএসএফের ডেপুটি অপারেশনস পরিচালক অ্যালান গনজালেজ বলেন, আক্রান্ত এলাকায় প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা এখনো সংক্রমণের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। এমনকি মাস্কের মতো মৌলিক চিকিৎসা সরঞ্জামেরও ঘাটতি রয়েছে।
ইতোমধ্যে কঙ্গোর তিনটি প্রদেশ এবং প্রতিবেশী দেশ উগান্ডায় ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। উগান্ডা এ সপ্তাহে কঙ্গোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
তবে কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাম্বা দাবি করেছেন, পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণের বাইরে” নয়। তার ভাষ্য, দেশটির ইবোলা মোকাবিলার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং গত বছরও তারা সফলভাবে প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করেছে।
তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে সীমান্ত খোলা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। আমরা জানি কীভাবে এ রোগ মোকাবিলা করতে হয়।”


