শিক্ষকদের বদলি: রাঙামাটিতে মানববন্ধন, ৫ দাবিতে স্মারকলিপি

শিক্ষকদের বদলি: রাঙামাটিতে মানববন্ধন, ৫ দাবিতে স্মারকলিপি
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃক অন্যান্য উপজেলা থেকে নানিয়ারচর উপজেলায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বদলির প্রতিবাদে রাঙামাটিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার সকালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের গেটের সামনে ‘নানিয়ারচর উপজেলাবাসী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাতে ব্যানার ও প্লেকার্ড নিয়ে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী ও সচেতন সমাজের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। মানববন্ধনে নানিয়ারচর উপজেলাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন কবিতা চাকমা ও শ্রীতন চাকমা।

বক্তারা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, কোনো প্রকার অনিয়ম বা অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে নানিয়ারচরে শিক্ষকদের এই বদলি করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বদলির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা বলেন, যদি এই নিয়মই থাকে তবে কেন উপজেলাভিত্তিক চাকরিতে নিয়োগ প্রদান করা হয়? বরকল, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও লংগদু—এই চার উপজেলা থেকে নানিয়ারচরে সহকারী শিক্ষকরা বদলি হয়ে আসায় স্থানীয় চাকরিপ্রত্যাশীরা চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

বক্তাদের অভিযোগ, স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি নানিয়ারচর উপজেলায় না হওয়া সত্ত্বেও নীতিমালা লঙ্ঘন করে চার উপজেলা থেকে মোট ১১ জন সহকারী শিক্ষককে নানিয়ারচরে বদলি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বদলিকৃত শিক্ষকরা হলেন বরকলের টিটন চাকমা, লংগদুর রণ বিজয় চাকমা, পিংকি চাকমা ও নূর আলম, জুরাছড়ির সুমন চাকমা এবং বাঘাইছড়ির অরুন বিকাশ চাকমা, চুমকি চাকমা, আমেনা আক্তার, দিদার আলম, নিবৃতি চাকমা ও প্রেরণা চাকমা।

বক্তারা এই ১১ জন শিক্ষককে পুনরায় নানিয়ারচর থেকে সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানান। তারা আরও বলেন, এই অতিরিক্ত বদলির কারণে স্থানীয় যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা শিক্ষকতা পেশায় অংশগ্রহণের ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নতুন নিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত শূন্য পদ সৃষ্টি হচ্ছে না।

অন্যান্য উপজেলা থেকে নানিয়ারচরে শিক্ষক বদলির বিষয়টি স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কফিল উদ্দিন জানান, অন্য উপজেলা থেকে নানিয়ারচর উপজেলায় ১০ জন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। যেসব পদ থেকে শিক্ষকরা অবসরে গেছেন এবং যাদের স্বামী বা শ্বশুরবাড়ি ওই এলাকায়, কেবল তাদেরকেই সেখানে বদলি করা হয়েছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন কোনো শূন্যপদের বিপরীতে তাদের বদলি করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

স্মারকলিপিতে নানিয়ারচর উপজেলাবাসীর পক্ষে ৫টি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো নানিয়ারচর উপজেলায় অন্যান্য উপজেলা হতে অতিরিক্ত ও নীতিমালা বহির্ভূত শিক্ষক বদলি বন্ধ করা; সম্প্রতি বদলিকৃত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; স্থানীয় শিক্ষিত বেকারদের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত শূন্য পদ সংরক্ষণ করা; সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা এবং উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষার্থে বদলি কার্যক্রমে স্বচ্ছ, যৌক্তিক ও নীতিমালাভিত্তিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad