এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের হেনস্তা করতেন বলে আদালতকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।
রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবপাচার মামলায় রিমান্ড শুনানিতে তিনি একথা বলেন।
এদিন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পল্টন থানার মানবপাচার আইনের মামলায় পুনরায় ছয় দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। এর আগেও একই মামলায় গত ২৪ মার্চ তাকে ৫ দিনের রিমান্ড দেন আদালত।
শুনানিতে আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এই মামলার এজাহারে তার নাম আছে এবং এই চক্রের সঙ্গে তিনি জড়িত। এক-এগারোর সময়ে এই আসামি ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের হেনস্তা করতেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ক্ষমতায় নিতে তিনি অনেক সহযোগিতা করেছেন। তার উপহার হিসেবে তিনি এমপি হয়েছেন, ব্যবসা করেছেন এবং অনেক সুবিধা পেয়েছেন।
ফারুকী বলেন, ‘মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী যেভাবে মানবপাচারের কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন, এটার নজির কোনো দেশে নেই। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে মানবপাচার করে উনিই একমাত্র নজির সৃষ্টি করেছেন। শেখ হাসিনাকে তিনি অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন এবং শেখ হাসিনার থেকে সব প্রকার অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন।’
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম সজীব বলেন, ‘ইতোমধ্যে তিনি ৫ দিনের রিমান্ড পেয়েছেন। এফআইআরে নাম ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। পাঁচ দিনের রিমান্ডে তদন্ত কর্মকর্তা কী পেলেন। আদালতকে কী দিতে পারলেন, তা কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ স্পষ্ট করতে পারেননি। আইন অনুযায়ী কেন রিমান্ডে নেওয়া হবে। রিমান্ডের আবেদন আইনানুগ না। শুধুমাত্র অপমান করার জন্য তাকে বারবার রিমান্ড দেওয়া হচ্ছে।’
আসামির অসুস্থতার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বয়স ৭২ বছর বয়স। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। রিমান্ডে দেওয়ার আগে ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ মামলায় একাধিক আসামি জামিনে আছেন। এক্ষেত্রে আমরাও জামিন চাই। কারণ আইন সবার ক্ষেত্রে একই হওয়ার কথা।
আসামি পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে ফের আদালতকে ফারুকী বলেন, ‘মামলার অভিযোগ এক লাইনেরও হতে পারে। মামলায় সব প্রমাণ থাকা জরুরি নয়। এই মামলার বাদীর কাছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা দাবি করে এই আসামি। এবং সেই টাকা তিনি নিয়েছেন। মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর নামে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর সঙ্গে শেখ রেহানাসহ, সজীব ওয়াজেদ জয় আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন। সুতরাং তদন্তের স্বার্থে তাকে সাত দিনের রিমান্ড দরকার।’
‘খালেদ ও মাসুদ চৌধুরীর কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে’
এদিকে রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদ এবং মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফ্যাসিবাদের দোসর ও দুষ্কৃতকারী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তাদের অতীতের বহু কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতার মধ্যে পড়ে। আওয়ামী সরকারের আমলে যত মানবতাবিরোধী অপরাধ তারা করেছেন, আমরা সেটি তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচারের সম্মুখীন করব।’
এর আগে ট্রাইব্যুনালে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও মামুন খালেদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে আগামী ৭ এপ্রিল তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে গণহত্যা ও মামুন খালেদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।


