শাহবাগে আবার ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধ

শাহবাগে আবার ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধ
Advertisement
Advertisement

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের দাবিতে আবারও ঢাকার শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

সোমবার দুুপুর ২টা থেকে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তৈরি হয় তীব্র যানজট।

অবস্থান কর্মসূচিতে সব রাজনৈতিক দলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো সোচ্চার না হলে নির্বাচনে জনগণই আপনাদের সোচ্চার করে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশপন্থি দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠুক। হাদির আদর্শ কোনো দলের ভেতরে কুক্ষিগত করা যাবে না।’

নিহত শরিফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ঢাকা-৮ আসন নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান তুলে ধরে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি প্রেসার গ্রুপ ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। ক্ষমতার কাছে নিজেদের বর্গা দেবে না ইনকিলাব মঞ্চ। যতদিন আমরা যোগ্যতাসম্পন্ন না হব, ততদিন ঢাকা-৮ আসনে আমাদের কেউ দাঁড়াবে না।’

এর আগে রোববার রাতে চার দফা দাবি ঘোষণা করে শাহবাগ ছেড়ে যায় ইনকিলাব মঞ্চ। এদিন টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মসূচি পালন করছিল তারা।

আরও পড়ুন

তাদের ঘোষিত চার দফা দাবিগুলো ছিল:

১. যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বা হত্যায় সাহায্য করেছে, তাদের আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

২. বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্কার্স পারমিট বাতিল করতে হবে।

৩. সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং যারা গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। ভারত আশ্রয় দিলে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে হবে।

৪. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে দায়িত্বে থাকা যারা ভুল তথ্য দিচ্ছে এবং যেসব আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছে, তাদের চাকরিচ্যুত করতে হবে।

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় বসুন্ধরার বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে।

সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান ওসমান হাদি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর