তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আফগানিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ধরে সেটিকে ‘যুদ্ধের শুরু’ হিসেবে ধরে নেবেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ।
শনিবার পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস- আফগানিস্তান শান্তি চায়, কিন্তু ইস্তানবুলে চলমান আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হলে ধরে নেওয়া হবে এখান থেকেই যুদ্ধের শুরু।’
‘আমাদের সামনে বিকল্প আছে। কোনো চুক্তি না হলে, আমরা যুদ্ধে যাব। তবে আমি দেখেছি তারা (তালেবান সরকার) শান্তি চায়’, যোগ করেন খাজা আসিফ।
গত ১১ অক্টোবর রাতে পাক-আফগান সীমান্তে পাক সেনাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আফগানের তালেবান বাহিনী। তারা দাবি করে, সেদিনই কাবুলসহ আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিমান হামলার জবাবে ওই হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তান সেনারাও তালেবান বাহিনীর হামলায় সশস্ত্র জবাব দিলে দুই দেশের সীমান্তে অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয়। ২০২১ সালে তালেবান সরকার আফগান শাসন ভার নেওয়ার পর এটিই পাকিস্তানের সঙ্গে সবচেয়ে বড় সীমান্ত সংঘর্ষ।
এ পরিপ্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় পাকিস্তান ও আফগানের তালেবান সরকার। গত ১৮ অক্টোবর স্থায়ী যুদ্ধবিরতির চেষ্টায় দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
তবে ওই বৈঠক থেকে কোনো ইতিবাচক ফল না পাওয়ায় গত শনিবার ফের বৈঠকে বসেন তারা। এসময় প্রতিনিধিরা জানান, ‘দোহা শান্তিচুক্তিতে’ মৌখিক সম্মতির পর থেকে গত চারদিন ধরে সীমান্তে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা এড়িয়ে চলছে উভয় দেশ। তবে এদিনও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় এ আলোচনা রোববারও চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


