চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থীর প্রাণ গেছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১০৯ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে পর্যাপ্ত সচেতনতা তৈরি না হওয়ায় প্রতিবছরই অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাণ হারাচ্ছে।
শনিবার মিরসরাই ট্রাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা গেলে শুধু নিরাপদ সড়কই নিশ্চিত হবে না, একই সঙ্গে একটি সুশৃঙ্খল জাতি গঠনও সম্ভব হবে। কিন্তু মিরসরাই ট্রাজেডির পরও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী নিহত, আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হন। দেশের ইতিহাসে একক সড়ক দুর্ঘটনায় এটি অন্যতম ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা। এত বড় দুর্ঘটনার পরও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংগঠনটির।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪৭ জন এবং আহত হন ১১ জন। মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৬৭ জন শিক্ষার্থী, আহত হন একজন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৫৬ জন এবং আহত হন ২৫ জন। মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ২৩ জন আহত হন। জুন মাসে ৫৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬০ জন এবং আহত হন ২৭ জন শিক্ষার্থী।
এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সুপারিশগুলো হলো—পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা, প্রতি মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জেব্রা ক্রসিং ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, মহাসড়কের পাশে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য ‘রোড সেফটি গার্ড’ নিয়োগ এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন।


