চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছরের শিশু জায়হান নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মুক্তিপণ দাবি করে পাঠানো একটি রহস্যময় চিরকুট এবং হাতের লেখা বিশ্লেষণের মাধ্যমেই বেরিয়ে এসেছে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীর পরিচয়।
গত মঙ্গলবার পটিয়া পৌরসভার দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ শাহজাহানের ছেলে মো. জায়হান নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে একটি চিরকুট পাঠানো হয়। তবে চিরকুটটিতে টাকা আদায়ের জন্য কোনো যোগাযোগ নম্বর বা সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় তদন্তকারীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চিরকুটে ব্যবহৃত কাগজের মতো একই ধরনের প্যাড ও খসড়া নোটের সন্ধান পায়। এরপর ওই বাড়ির সদস্যদের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হলে প্রতিবেশী তরুণী সাদিয়া সুলতানা নিহার (১৯) লেখার সঙ্গে মুক্তিপণের চিরকুটের হুবহু মিল পাওয়া যায়। সাদিয়া পেশায় পটিয়া শেভরন হাসপাতালের একজন নার্স।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া স্বীকার করেন, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তিনি শিশু জায়হানকে হত্যা করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাদিয়া সুলতানা নিহাদের বসতঘরের পেছনের নর্দমা থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ছোট ছোট আলামত ও প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমেই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের জট খোলা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় সাদিয়া সুলতানা নিহা এবং তার বাবা-মাকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


