সাইফউদ্দিনের দারুণ একটা স্পেল, নতুন বলে নাসুম আহমেদের স্পিন জাদুতে আফগানিস্তানের এমন একটা অবস্থা হয়েছিল, ১০০ পেরোনোই মনে হচ্ছিল দূরের পথ। রবিবার সেখান থেকে উদ্ধার পেলেও ম্যাচ জেতা হলো না রশিদ খানদের, ঠেকানো হলো না হোয়াইটওয়াশ, বলা ভালো বাংলাওয়াশ। শারজাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাইফ হাসানের ৩৮ বলে ৬৪* রানের এক ইনিংসে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ।
সাইফ একাই মেরেছেন ৭ ছক্কা, যেখানে আফগানিস্তানের সবাই মিলে মেরেছেন ৪টা। ১২ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে প্রথমবারের মতো আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে টানা চতুর্থ টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতলেন জাকের আলী অনিকরা।
১৪৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সাইফের ব্যাট থেকেই এসেছে বেশিরভাগ রান। তার ব্যাটিং হাইলাইটস হতে পারে ইনিংসের ১২তম ওভারে আবদুল্লাহ আহমাদযাইয়ের লেংথ বলে দারুণ এক ফ্লিকে মারা ছক্কাটা। স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে মারা এই ছক্কা পেরিয়ে গেছে শারজার ছাদ, ৯২ মিটার ছক্কা। সাইফের কাছে এরপর আরো দুটো ছয় খেয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। তার সাথে ঝড় গেছে বাশির আহমেদের ওপর দিয়েও। তাকেও সাইফ মেরেছেন তিন ছক্কা।
শেষ ছয় ইনিংসে সাইফ ফিফটি পেরিয়েছেন তিনবার। সব মিলিয়ে তার চতুর্থ ফিফটি এলো এই ম্যাচে। অবশ্য ফিফটি পেরিয়ে যাওয়ার পরেও থামেননি এই ডানহাতি ব্যাটার। ইনিংস শেষ করেছেন ৭ ছক্কা আর দুই চারে ৬৪ রানে অপরাজিত থেকে। যদিও উইনিং শটটা নিয়েছেন
যদিও রান তাড়ার শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ২৪ রানেই পড়েছে ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের উইকেট। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৩৯ বলে ৫৫ রানের জুটি গড়েন তানজিদ ও সাইফ। যদিও বাঁহাতি তানজিদ ক্যাচ তুলে জীবন পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। জীবন পাওয়ার পরের বলেই আবদুল্লাহর বলে মিড অফে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। অধিনায়ক জাকের আলী ব্যাটিংয়ে আজও বলার মতো কিছু করতে পারেননি। আগের ম্যাচে রান পেলেও আজ ১১ বলে করেছেন ১০ রান। উইনিং শট নেয়া নুরুল হাসান সোহান ৯ বলে করেছেন ১০* রান।
বাংলাদেশের গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ছিল আজ দুর্দান্ত।ফিল্ডাররা ধরেছেন সাতটা ক্যাচ। যদিও এর মাঝে ক্যাচ পড়েছে একটা, সেটার বদৌলতেই আফগানদের স্কোর পেরিয়ে গেছে ১৪০-৩৪ ঘর। ব্যক্তিগত ২ রানে লং অফে তানজিমের বলে মুজিব উর রহমানের ক্যাচ ছেড়েছেন নুরুল হাসান সোহান। তখন জীবন পেয়ে চারটি চারে ক্যারিয়ার সেরা ২১ রানের ইনিংস খেলেছেন মুজিব। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন এই টেইলএন্ডার।
এর আগে ৯৮ রানে ৮ উইকেট হারানো আফগানিস্তান ছিল পুরো ২০ ওভার খেলতে না পারার শঙ্কায়। সেই ব্যাটিং ধস থেকে মুজিবকে সাথে নিয়ে আফগানদের টেনে তুলেছেন দারউইশ রাসুলি। ২২ বলে ৩৪ রানের জুটি দুজনের। রিশাদকে মেরেছেন একটি করে ছক্কা ও চার। এই দুই ইনিংসেই লড়াইয়ের রসদ পায় আফগানিস্তান।
অবশ্য বাংলাদেশি বোলারদের ডেথ ওভারের বোলিংয়ের দায়ও আছে এর নেপথ্যে। মিডল ওভারে যেখানে ৬৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছেন, সেখানে শেষের চার ওভারে রিশাদ-শরীফুলরা দিয়েছেন ৩৭ রান। আজ অবশ্য ব্যতিক্রম ছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তিন ওভার বল করে ১৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। পাওয়ারপ্লের শেষ বলে তার ফুলটস মিস করে বোল্ড হয়েছেন ওয়ালিউল্লাহ তারাখিল। ব্যক্তিগত ২৮ রানে অফস্টাম্পের বাইরের বলে স্ল্যাশ করে তানজিদের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন সেদিকউল্লাহ আতাল। আর ১৯ তম ওভারে রাসুলি ফিরেছেন সাইফের স্লোয়ারে থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে।
নাসুম যথারীতি নতুন বলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন চতুর্থ ওভারে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়ে। তার দ্বিতীয় শিকার মোহাম্মদ নবী, বোল্ড হয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তানজিম ছিলেন হ্যাটট্রিকের দুয়ারে, টানা দুই বলে রশিদ খান আর আবদুল্লাহ আহমাদজাইয়ের উইকেট নিয়ে। খরুচে বল করলেও ইব্রাহিম জাদরানকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনেছেন দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির ম্যাচ সেরা শরীফুল।


