শব্দদূষণে বিপন্ন ঢাকার জনজীবন

শব্দদূষণে বিপন্ন ঢাকার জনজীবন
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

‘রাতে ঘুমালেও কানের মধ্যে ভোঁভোঁ করে’-এভাবেই নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজার মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা এনামুল হক।

গত ১৩ বছর ধরে ঢাকার সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কগুলোতে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার ডিউটির প্রায় পুরোটা সময়ই চারপাশে অনবরত হর্ন বাজতেই থাকে। এই উচ্চ শব্দ থেকে তার কানে তীব্র সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ধীরে ধীরে তার শোনার ক্ষমতা কমে গেছে, অথচ এই সমস্যার উপযুক্ত চিকিৎসা করানোর মতো কোনো উপায় তার কাছে নেই।

ঢাকার যেকোনো সড়কে যেকোনো সময় হর্ন বাজা এখন নিত্যদিনের চিত্র। শব্দদূষণ রোধে এবং সচেতনতা তৈরিতে অতীতে যেটুকু চেষ্টা করা হয়েছিল, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থাও এখন রণে ভঙ্গ দিয়েছে।

সরকার বিভিন্ন সময়ে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও পরে নিজেই সেই সিদ্ধান্তের কথা ভুলে গেছে। অথচ প্রতিবছর বিশেষ দিবসগুলো এলে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিতরণ করা সচেতনতামূলক লিফলেটে লেখা থাকে, ‘শব্দ দূষণে মৃত্যুও হতে পারে।’

জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ফ্রন্টিয়ার্স’-এ প্রকাশিত ‘ইভালুয়েশন অব নয়েজ পলিউশন ইমপ্যাক্ট অন হেলথ ইন ঢাকা সিটি’ শীর্ষক একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় শব্দের মাত্রা অনুমোদিত সীমার বহু ওপরে পৌঁছে গেছে। এই ভয়াবহ শব্দদূষণের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে যানবাহনের তীব্র হর্ন, মডিফাইড মোটরসাইকেল এবং অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ।

এই শব্দদূষণের প্রভাবে মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদে হার্টের সমস্যা ও ইন্দ্রিয়জনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে মানুষের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে, মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, একজন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ৭০ ডেসিবলের বেশি মাত্রার শব্দের মধ্যে বসবাস করলে তার শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়। এর পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ঘুমের সমস্যা ও মানসিক চাপের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়। অথচ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রাতে ১০৭ ডেসিবল এবং দিনে তার চেয়েও অনেক বেশি মাত্রার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।

অর্ধ যুগেরও বেশি সময় ধরে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ কার্টুনিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হক।

তিনি বলেন, ‘যে লোকটা বাইরের এলাকাতে অনবরত হর্ন বাজান, তিনি সেনানিবাস এলাকায় গিয়ে আর হর্ন বাজান না। কারণ, তিনি খুব ভালো করেই জানেন, সেনানিবাসে এই নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।’

বাস্তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযান ছাড়া শব্দদূষণ রোধে অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সম্প্রতি পুলিশ বাহিনীকে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি সুযোগ করে দেওয়া হলেও তারা এখনো পর্যাপ্ত তৎপর নয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোমেন রায়হান বলেন, ‘আমাদের দেশে আসলে কোনো সঠিক নগরপরিকল্পনা নেই। পৃথিবীর অনেক দেশেই রাস্তার পাশে শব্দের তীব্রতার কারণে মানুষ বাড়িঘর তৈরি করতে চায় না। তারা রাস্তার দুপাশে প্রচুর গাছ লাগায় যেন শব্দের তীব্রতা লোকালয়ে কম পৌঁছাতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে রাস্তার পাশের জমির দাম সবচেয়ে বেশি। এমনকি আমাদের দেশের যত শিল্পকারখানাও গড়ে উঠেছে, তার সবই লোকালয়ের আশেপাশেই অবস্থিত।’

জাপানের নগরপরিকল্পনার উদাহরণ টেনে অধ্যাপক রোমেন রায়হান আরও বলেন, জাপানে বিমানবন্দর বা এয়ারপোর্ট তৈরি করা হয়েছে সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকায়, যেন উড়োজাহাজ ওঠানামার সময় বিকট শব্দে সাধারণ মানুষের কোনো সমস্যা না হয়।

হর্নের তীব্রতায় কান ঝালাপালা

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০০৬ সালে প্রণীত ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা’ অনুযায়ী ঢাকার নীরব এলাকায় রাতের বেলা শব্দের সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৪০ ডেসিবল এবং দিনে ৫০ ডেসিবল নির্ধারণ করা আছে। একইভাবে আবাসিক এলাকায় রাতে ৪৫ ডেসিবল ও দিনে সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবল শব্দ করা যাবে।

মিশ্র এলাকায় শব্দের গ্রহণযোগ্য মাত্রা যথাক্রমে রাতে ৫০ ও দিনে ৬০ ডেসিবল এবং বাণিজ্যিক এলাকায় রাতে ৬০ ও দিনে ৭০ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে শিল্প এলাকায় রাতে ৭০ ডেসিবল এবং দিনে সর্বোচ্চ ৭৫ ডেসিবল পর্যন্ত শব্দ করা যাবে।

সাধারণত একটি গাড়িতে যেহেতু একটিই হর্ন থাকে, তাই সেই হর্নের শব্দমাত্রা ৪০ ডেসিবলের নিচে থাকলেই কেবল আইন পুরোপুরি মেনে চলা সম্ভব। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে হর্ন প্রস্তুত বা আমদানির ক্ষেত্রে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই।

আরও পড়ুন

এ প্রসঙ্গে চিকিৎসক রোমেন রায়হান বলেন, সরকারের উচিত শব্দদূষণের উৎসেই বাধা দেওয়া। ৪০ ডেসিবলের বেশি মাত্রার হর্ন ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা যাবে না। তাই এ ধরনের হর্ন আমদানির ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকতে হবে।

তবে গাড়ির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ইউ কারস’-এর স্বত্বাধিকারী বেনজীর আহমেদ জানান, গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে শব্দমাত্রা নিয়ে কোনো নির্দেশনা থাকে না।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাজারে এমন কিছু হর্ন পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলো সরাসরি হাইড্রোলিক না হলেও এর শব্দ হাইড্রোলিক হর্নের কাছাকাছি রকমের বিকট হয়। তাই এই ধরনের হর্ন আমদানি জরুরি ভিত্তিতে নিষিদ্ধ করা উচিত।

বর্তমানে দেশে যেসব মোটরসাইকেল সংযোজন বা অ্যাসেম্বল করা হচ্ছে, সেখানেও হর্নের মাত্রা কতটুকু হবে তা নিয়ে কোনো পূর্বশর্ত রাখা নেই। যদিও বিআরটিএ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী মোটরসাইকেলের হর্নের সহনীয় সীমা ৮৫ ডেসিবেল।

আইন অমান্য করে অতিরিক্ত জোরালো বা নিষিদ্ধ হর্ন ব্যবহার করলে ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে এসব আইনি শাস্তির কথা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে এর কোনো প্রয়োগ দেখা যায় না।

রাজধানীর বংশাল এলাকার বাইকের পার্টসের দোকানগুলোতে গেলেই দেখা যায়, সেখানে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী রিপ্লিকা এক্সহস্ট ও বিকট শব্দের বিভিন্ন হর্ন। এসসি প্রজেক্ট, আক্রাপোভিক, ইয়োশিমুরা ও লিওভিন্সের মতো রেপ্লিকা এক্সস্টগুলোর বেশিরভাগই ১০০ ডেসিবেলের চেয়ে বেশি শব্দ তৈরি করে।

একইভাবে বাজারে সহজলভ্য স্নাইল হর্ন, ভিআইপি সাইরেন ও এয়ার হর্নের শব্দমাত্রাও ১১০ থেকে ১৫০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছায়। এমনকি ১৪০ ডেসিবেলের তীব্র মোটরসাইকেল হর্ন এখন বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও দেদারসে বিক্রি হচ্ছে।

মডিফায়ারের নতুন অত্যাচার

পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার ‘বাইকার হসপিটাল জোন’-এর কর্মচারী সোহেল রানা মডিফিকেশনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, ‘বাইকের সাইলেন্সার মোডিফাই করিয়ে আপনি যত জোরেই সাউন্ড বা শব্দ চান না কেন, তা করে দেওয়া সম্ভব। অরিজিনাল পাইপ কেটে আমরা আমাদের নিজেদের বানানো মডিফায়ার সেখানে যুক্ত করে দেব।’

বর্তমানে বাইকারদের মধ্যে আফটার মার্কেট এক্সস্ট ব্যবহার বা সাইলেন্সার মডিফাই করার প্রবণতা খুব দ্রুত বাড়ছে। বাইকের মূল সাইলেন্সার পরিবর্তন করে এমন সব এক্সস্ট লাগানো হচ্ছে, যেগুলো থেকে অতিরিক্ত গর্জন বা ‘বুমবুম’ শব্দ বের হয়। বাইকারদের মধ্যে এখন ডিপ রাম্বল, থ্রোটি গ্রাউল ও হাই-পিচড রোর ধরনের তীব্র শব্দ তৈরির প্রবণতা ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এ ধরনের সাইলেন্সার মডিফিকেশন এখন একটি নতুন ট্রেন্ড বা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।

উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ বন্ধুদের দেখাদেখি ও তাদের প্রভাবে ১১ হাজার টাকা খরচ করে নিজের বাইকে এই ধরনের হলার লাগিয়েছে। তার ভাষায়, ‘এখন এটাই আমাদের ট্রেন্ড’।

তবে এভাবে বিকট শব্দে বাইক নিয়ে পথে চলতে গেলে সাধারণ পথচারীদের তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে তাকে পড়তে হয় বলেও সে স্বীকার করে।

মোটরসাইকেল মেকানিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে এই ধরনের মডিফাইড বা পরিবর্তিত বাইকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কেউ বাইকের মূল সাইলেন্সার কেটে ফেলছেন, আবার কেউ অতিরিক্ত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যোগ করে শব্দের তীব্রতা বাড়াচ্ছেন। এদিকে রাস্তায় তরুণদের এই বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ নগরবাসী।

রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার বাসিন্দা মুনিমা মাহরিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভবনের চারতলায় বাস করেও মাঝরাতে রাস্তায় বাইকের বিকট শব্দে হঠাৎ আঁতকে উঠতে হয়। এই উচ্চ শব্দের কারণে ঘরের ছোট শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আবুল বাসার সাজ্জাদ বলেন, রাস্তায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোর হর্নও অত্যন্ত তীক্ষ্ণ থাকে। সেগুলো বাজানো হলে শব্দ একেবারে কানে এসে বিঁধে।

মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নয়েজ এক্সপোজার অ্যান্ড নয়েজ ইনডিউসড হিয়ারিং লস অ্যামং দ্য ট্রাফিক পুলিশ ইন ঢাকা মেট্রোপলিটন সিটি’ শীর্ষক একটি গবেষণায় ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ট্রাফিক পুলিশের প্রায় ৬৫ শতাংশ সদস্য সার্বক্ষণিক এই উচ্চমাত্রার শব্দের কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস ও মারাত্মক ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, সাধারণ যানবাহনের চালকদের মধ্যে ১০ শতাংশের স্থায়ী শ্রবণ সমস্যা এবং ১৭ শতাংশের অস্থায়ী শ্রবণ সমস্যা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ‘নেচার পোর্টফোলিও’-তে প্রকাশিত ‘স্পেশিওটেম্পোরাল প্যাটার্নস ইন এয়ার পলিউশন অ্যান্ড সাউন্ড ইন ঢাকা, বাংলাদেশ’ শীর্ষক আরেকটি গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়, দীর্ঘদিন ৭০ ডেসিবেলের বেশি শব্দের মধ্যে থাকলে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ঘুমের সমস্যা ও মানসিক চাপের ঝুঁকি অনেক বাড়ে। অথচ পরিমাপে দেখা গেছে, ঢাকার আজিমপুরে দিনের বেলা সর্বোচ্চ ১১০ ডেসিবেল এবং মতিঝিলে রাতের বেলা ১০৭ ডেসিবেল শব্দ রেকর্ড করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কেবলই কাগজে-কলমে

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’-এ দেশের বিভিন্ন এলাকাকে নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প—এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করে শব্দের নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এই আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসের চারপাশের ১০০ মিটার এলাকাকে সম্পূর্ণ ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করে সেখানে হর্ন ও মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত যেকোনো ধরনের হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এর আগে ২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার বেশ কয়েকটি প্রধান সড়কে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করেছিল।

পরবর্তীতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও বিমানবন্দর সড়কের একটি নির্দিষ্ট অংশে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়। তখন সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা ছিল, পর্যায়ক্রমে পরে গোটা ঢাকা শহরেই একই আইনি ব্যবস্থা চালু থাকবে। কিন্তু বাস্তবে সেই নিষেধাজ্ঞার কোনো কিছুই আর মানা হয়নি।

বিদ্যমান বিধিমালায় যেকোনো নির্মাণকাজে সাইলেন্সার বা বিশেষ শব্দরোধী ব্যবস্থা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা বাস্তবে কেউ মেনে চলে না। একইভাবে সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্ব অনুমতি নেওয়ার নিয়ম রাখা হলেও সেটিও একটি কাগজে বিধান হয়েই আছে।

আইন অমান্য করার অপরাধে প্রথমবার সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু বিশেষ কোনো দিন বা আয়োজন ছাড়া সাধারণত আইন প্রয়োগের কোনো উদাহরণ বা অভিযান দেখা যায় না।

এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. ফজলে এলাহী বলেন, ‘আমাদের জনবল সংকট এখন শব্দদূষণ রোধের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো অধিদপ্তরে মাত্র তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন, যা আমাদের মোট প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এই সীমিত জনবল দিয়েই আমাদের একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটা, নিষিদ্ধ পলিথিন ও শব্দদূষণসহ বিভিন্ন ধরনের উচ্ছেদ ও ভ্রাম্যমাণ অভিযানে অংশ নিতে হয়।’

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার শব্দদূষণ বিধিমালা সংশোধন করার পর এই আইন বাস্তবায়নে ৬৫ জন ট্রাফিক সার্জেন্টকে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করে এবং তাদের হাতে শব্দ পরিমাপক মিটার তুলে দেয়। যদিও বাস্তবে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় দায়িত্বে থাকা একজন সার্জেন্ট জানান, বর্তমানে তাদের কাছে কোনো শব্দ পরিমাপকের যন্ত্র নেই।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ফজলে এলাহী বলেন, দেশে শব্দদূষণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে হর্ন ও পার্টস আমদানিকারকদের নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর