মাত্র সাত মাস আগেই হয়ে গেছে যুদ্ধ। এখন করমর্দন তো দূরের কথা, কথা বলাও যেন বন্ধ। কিছুদিন আগেও দুই দেশের ক্রিকেটাররা পর্যন্ত হাত মেলাননি। সেই দুই দেশেরই দুই উচ্চ পর্যায়ের নেতা হাত মেলালেন, তাও আবার ঢাকায়।
দক্ষিণ এশিয়ার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে করমর্দনের বিরল দৃশ্যের অবতারণা করলেন পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংসদ ভবনে ‘ডিপ্লোম্যাটিক থ্রিলার’
বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ ব্লকের নির্ধারিত একটি কক্ষে তখন নীরবতা। খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন সার্কভুক্ত ছয়টি দেশের প্রতিনিধিরা। ছিলেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ভুটানের ডি এন ধুংগিয়েল, মালদ্বীপের আলী হায়দার আহমেদ এবং শ্রীলঙ্কার ভিজিতা হেরাথ।
কিন্তু সবার নজর ছিল কক্ষের দুই প্রান্তে থাকা দুই ব্যক্তির দিকে—ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক।
বরফ গলার সেই মুহূর্ত
কক্ষে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে নাটকীয়ভাবে সৌজন্যের হাত বাড়িয়ে দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি নিজেই এগিয়ে যান পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিকের দিকে। শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্কের সব দেয়াল ভেঙে দুই নেতা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন। সংক্ষেপে কুশল বিনিময়ও করেন।
শোক যেখানে মিলনবিন্দু
যে দূরত্ব ইসলামাবাদ বা দিল্লিতে ঘোচানো সম্ভব হয়নি, তা খালেদা জিয়ার প্রয়ানে ঢাকার শোকাতুর পরিবেশে ঘুচে গেল। দুই বৈরী দেশের এই সৌজন্য বিনিময় কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ের কুশল বিনিময় নাকি আগামীর কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা।


