সাভারের তুরাগ নদী থেকে দুই কিশোরের–সুমন (১৭) ও আরিফুল–মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে একে অসাবধানতাবশত ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করলেও, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া বেশ কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে–রাজনৈতিক সহিংসতার জেরে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া বাজারের কাছে তুরাগ নদী থেকে সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, ওই কিশোর বন্ধুদের সঙ্গে একটি পিকনিকের সময় ট্রলার থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। তবে অনলাইনে তার এই মৃত্যু নিয়ে তীব্র গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে আশুলিয়া পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বন্ধুদের সঙ্গে একটি ট্রলারে করে পিকনিকের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল সুমন। ট্রলার থেকে তড়িঘড়ি করে নামার সময় সে নদীতে পড়ে যায় ও ডুবে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় জেলেরা তার মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে কর্মকর্তারা আশুলিয়ার গরুর হাটের কাছ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকালে সুমনের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। হ্যান্ডসেটটি সচল না থাকলেও সেটির সিম কার্ডের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। সুমন তুরাগ থানার রানাভোলা গ্রামের শাহ আলম এবং আমলা বেগমের সন্তান।
এদিকে, নৌ পুলিশের আমিনবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির শনিবার সন্ধ্যায় টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, বুধবার ভোরে তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীর সংযোগস্থল থেকে আরিফুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা আব্দুল হাই একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নৌকা ভ্রমণে গিয়ে অসাবধানতাবশত পড়ে আরিফুলের মৃত্যু হয়।
আব্দুল হাই টাইমসকে বলেন ‘আমার ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় এবং ২২ জুন থেকে সে নিখোঁজ ছিল। নৌ পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে তার দাফন সম্পন্ন হয়।’
আরিফুলের চাচা আসাদুল ইসলামও নিশ্চিত করেছেন, আরিফুল নিয়মিত ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিত।
অন্যদিকে, ফেসবুকে শেয়ার করা শত শত পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, সুমন তুরাগ থানার অধীনে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন সদস্য ছিল। ওইসব পোস্টের দাবি অনুযায়ী, গত ২২ জুন আওয়ামী লীগের একটি মিছিলে অংশ নেওয়ার কারণে সুমন ও আরও কয়েকজনকে ধাওয়া করা হয় এবং নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

একই পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ওই ওয়ার্ডের যুবলীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত বিপ্লব এবং তুরাগ থানা ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত আরিফুলের মরদেহও নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আশুলিয়া ও তুরাগ—উভয় থানার পুলিশই জানিয়েছে, তারা এই দাবিগুলোর কোনো সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
সুমনের মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই সালাউদ্দিন পরবর্তীতে আশুলিয়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোমিনুল ঘটনার তদন্ত করছেন। তবে সুমনের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তার পরিবার।

শুক্রবার মধ্যরাতের পরপরই ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর সঙ্গে আলাপকালে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুমনের পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, ওই কিশোর একটি স্থানীয় গুদামে কাজ করত এবং পিকনিকের সময় ডুবে মারা গেছে। পরিবার আরও জানিয়েছে, সে সাঁতার জানত না এবং নদীতে পড়ে গিয়েই তার মৃত্যু হয়।’
ওসি আরও যোগ করেন, সুমন কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বা কোনো রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নিয়েছিল–এমন কোনো তথ্য তার পরিবার পুলিশকে জানায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


