লালমনিরহাটের আদিতমারীতে গভীর রাতে বাড়ি থেকে আটক সাংবাদিক মুরশিদ আলম মুরাদকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
রোববার সকালে আদিতমারী থানা থেকে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
মুরাদ ‘দৈনিক ভোরের ডাক’ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি ও বিএফএফ নামের একটি আইপি টিভির জেলা প্রতিনিধি। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদের ছেলে।
শনিবার রাতে মুরাদকে আটকের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাংবাদিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’ তার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন নেতার নামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। আঞ্চলিক ‘দৈনিক যুগের আলো’ পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি ছিল সালিশি বৈঠকের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা সংক্রান্ত। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছিলেন যুগের আলোর স্থানীয় প্রতিনিধি গোলাপ মিয়া।
গোলাপ মিয়া বলেন, ‘প্রতিবেদনটি আমি প্রকাশ করলেও ওই বিএনপি নেতাদের ধারণা ছিল মুরাদই সংবাদের তথ্য দিয়েছেন। সংবাদ প্রকাশের জেরে ও আক্রোশবশত পুলিশের মাধ্যমে মুরাদকে হয়রানি করা হয়েছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’
বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের জেলা শাখার সভাপতি শরিফুল ইসলাম রতন বলেন, ‘সাংবাদিক মুরাদকে আটকের খবর পাওয়ার পরপরই আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কর্মসূচি ঘোষণা করি। পরে সকালে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর এমন হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে। সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া গভীর রাতে সাংবাদিককে ধরে নিয়ে হয়রানি করা মেনে নেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছি।’
আদিতমারী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর জানান, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে গত রাতে মুরাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সকালে তার বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মুরাদ সুস্থ শরীরে নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।


