রাজধানী ঢাকার লালবাগে একটি বাড়ি থেকে আনোয়ার হোসেন নামের এক আইনজীবীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার গোয়ালগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল মজিদ।
শনিবার লালবাগ থানার শহীদ নগর তিন নাম্বারের ফালা মসজিদ গলির মনির হোসেনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে লালবাগ থানা পুলিশ।
ওই ঘরে তিনি একাই থাকতেন বলে জানা গেছে। পুলিশের ধারণা দুই-তিন দিন আগে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।
বাড়ির মালিক মনির হোসেন জানান, চলতি মাসেই তিনি চার হাজার টাকা ভাড়ায় ওই রুমটিতে উঠেছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক টিমের সদস্যরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশ তার সঙ্গে থাকা ড্রাইভিং লাইসেন্স অনুযায়ী জগন্নাথ সাহা রোডের ঠিকানায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
পুলিশের লালবাগ ডিভিশনের উপ-কমিশার তালেবুর রহমান, এডিসি ও লালবাগ থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
লালবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামিল হোসেন জানান, আনোয়ার হোসেন ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় একাই একটি রুমে ভাড়া থাকতেন। তিনি অবিবাহিত। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাশের বাসার এক ভাড়াটিয়া দুর্গন্ধ পেয়ে ওই বাসায় উঁকি দেন। তখন দরজা হালকা ধাক্কা দিতেই খুলে যায়। পরে ভিতরে আনোয়ার হোসেনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি থানায় খবর দেন।
ওসি আরও জানান, রুমের ভেতরে ফ্লোরে বিছানা করে থাকতেন তিনি। সেই বিছানার উপরই মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন আনোয়ার। তার শরীর পচে কিছুটা ফুলে গেছে এবং ফোসকা পড়েছে। রুমে প্লেটে খাবারের কিছু অবশিষ্টও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মাদক সেবনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ইয়াবা এবং ফয়েল পেপার ও ছিল রুমের ভেতর।
ঘটনাস্থলে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেন জজকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তবে নিয়মিত কোর্টে যেতেন না। এ ছাড়া হতাশাগ্রস্ত এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। বাসার ভেতরে তিনি মাদক সেবন করতেন। অসুস্থতার কারণে দু-তিন দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


