তিস্তার ভাঙন/ বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা মানুষ, বিলীন ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা মানুষ, বিলীন ৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার গ্রামের ভোরের পাখি এলাকায় তিস্তার ভাঙন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার গ্রামের একটি জনপদের নাম ভোরের পাখি। এক সময় চর এলাকার এই জনপদে শত শত পরিবার বাস করত। চলতি বছরে কয়েক দফা তিস্তা নদীর ভাঙনে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে এই জনপদ। এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে জেলার আট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ তিন শতাধিক পরিবারের বসতভিটা। শত শত বিঘা আবাদি জমিও হয়েছে বিলীন। সর্বস্ব হারিয়ে নদীর পাড়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ভাঙনকবলিত মানুষ।

সরেজমিনে ভোরের পাখি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যে জনপদে ছিল ঘরবাড়ি, সবুজ ফসলের মাঠ আর মানুষের কোলাহল। সেখানে এখন শুধু নদীর স্রোত। প্রতিদিন ভাঙনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে এই জনপদের পরিধি।

গেল দুই সপ্তাহে তিন শতাধিক ঘরবাড়ির পাশাপাশি চর এলাকার ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও চলে গেছে নদীগর্ভে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই হারিয়ে যেতে পারে ভোরের পাখি এলাকা।

বসতঘর সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয়রা। ছবি: টাইমস

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর নদী শাসনের দাবি জানান তারা।

ভোরের পাখি এলাকার স্থানীয় সাইফুল মিয়া বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে এলাকার কোনো চিহ্ন নেই। দ্রুত সময়ে মধ্য বাঁধ নির্মাণ না করলে মানচিত্র থেকে ভোরে পাখির এলাকার আশপাশও বিলীন হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে জেলার তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নদী তীরবর্তী এলাকার অন্তত ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার আঙ্গারীদহ, উত্তর খাটিয়ামারি, চর চৌমোহন, সদর উপজেলার সীতাসতী ও সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখিসহ আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়াও ভাঙনের মুখে ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবন না থাকায় খোলা আকাশের নিচে চলছে আট বিদ্যালয়ের পাঠদান। প্রতিকূল পরিবেশের কারণে অনেকে স্কুলে আসছে না। কোথাও আবার একটি ছাপড়ার নিচে দুই চারজন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে পাঠদান। ফলে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার গ্রামের ভোরের পাখি এলাকায় তিস্তার ভাঙন। ছবি: টাইমস

কিছুদিন আগেও যেখানে ছিল ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বেঞ্চ, টেবিল ও শিক্ষার্থীদের কোলাহল। কিন্তু ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায়, এখন সেখানে শুধু পানি আর পানি।

ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ বলেন, এ বছর জেলায় আটটি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে বালির জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। যেসব এলাকা নতুন করে ভাঙছে সেসব এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলানো হবে। বর্তমানে জরুরি কাজ অন্য কিছুর বরাদ্দ নেই।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর