শি জিনপিংকে মোদি: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগোতে সীমান্তে শান্তি জরুরি

শি জিনপিংকে মোদি: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগোতে সীমান্তে শান্তি জরুরি
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিং। ছবি: এনডিটিভি
Advertisement
Advertisement

নয়াদিল্লি-বেইজিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হলে সীমান্তে স্থিতিশীলতা ও শান্তি জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। মোদি বলেন, দুই দেশ একে অপরের শক্তি থেকে পূর্ণভাবে শিক্ষা নিতে পারে এবং একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ভারত সফর করেন শি জিনপিং। তার ২৪ ঘণ্টার সফরে ভারত-চীন সীমান্ত ইস্যু, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির অপরিহার্য ভিত্তি বলে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সীমান্ত-সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো উভয় পক্ষকে মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

দুই নেতা দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দীর্ঘমেয়াদি জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় সীমান্ত সমস্যার একটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।

তবে চীন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, সীমান্ত বিরোধকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্য বিষয় থেকে আলাদাভাবে মোকাবিলা করা উচিত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে চীনের তিয়ানজিনে দুই নেতার সবশেষ বৈঠকের পর ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে ধারাবাহিক অগ্রগতি হয়েছে, দুই নেতা তা স্বাগত জানিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মতপার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, উভয় পক্ষকে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থ- তিন বিষয়ের ভিত্তিতে এগোতে হবে।

আরও পড়ুন: শিয়ের ভারত সফর/ কূটনৈতিক বরফ গললেও অনিশ্চিত বাণিজ্যিক অগ্রগতি

বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, গত ১৫ জুন তার জন্মদিনে তিনি ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। তিনি জানান, বছরের পর বছর ধরে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার ২১ বার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং এসব বৈঠকে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভারত-চীন সম্পর্ককে স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে।

চীন সবসময় কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে দেখেছে এবং তা উন্নত করেছে বলেও জানান চীনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, দুই দেশের জাতীয় পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও উভয় দেশ একে অপরের শক্তি থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সহযোগিতা করতে পারে, একসঙ্গে সফলতা অর্জন করতে পারে এবং অভিন্ন উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

করোনা মহামারির সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত এক শতাব্দীতে এমন জনসংকট দেখা যায়নি। এমন নজিরবিহীন মহামারি পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বের দুটি বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে চীন ও ভারতের বড় দায়িত্ব রয়েছে।’

আরও পড়ুন

মানবজাতির ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে উভয় দেশকে বড় রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের ভূমিকা পালনে একসঙ্গে কাজ করা উচিত বলেও মনে করেন শি জিনপিং।

তিনি আরও বলেন, সমতাভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল বহুমেরু বিশ্বের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। নিজেদের স্বার্থকে এককভাবে প্রাধান্য না দিয়ে বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।

বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চীন সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন। তারা সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং পারস্পরিক সম্মান, স্বার্থ ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, দিল্লি ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের সব দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছর শুরু হতে যাওয়া চীনের ব্রিকস সভাপতিত্বের জন্য চীনের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছে ভারত।

মোদি-শি বৈঠকের আগে দুই দেশের সরকারের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক করেন।

ওই আলোচনায় সীমান্ত নির্ধারণ, সীমান্ত পেরিয়ে সহযোগিতা এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

ভারত-চীন সীমান্ত আলোচনায় অজিত দোভাল ও ওয়াং ই দুই দেশের মনোনীত বিশেষ প্রতিনিধি। ২০০৩ সালে ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বিরোধের সমাধান খুঁজতে এই বিশেষ প্রতিনিধি ব্যবস্থা চালু করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad