লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এই চুক্তি করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই পক্ষ এ চুক্তিতে সই করে। এতে ডেনমার্ক, বাংলাদেশ সরকার ও বন্দর সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা অংশ নেন।
চুক্তিতে সই করেন এপিএম টার্মিনালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টেইন ভ্যান ডোঙ্গেন ও চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সৈয়দ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
এই চুক্তি দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রকল্প এবং এককভাবে সর্ববৃহৎ ইউরোপীয় বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চুক্তির পর ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালস, এপি মোলার-মেয়ার্স্ক গ্রুপের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল বাস্তবায়নে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে।
প্রকল্পটি ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তির আওতায় সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগে বাস্তবায়িত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এটির নির্মাণ, অর্থায়ন ও পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে বেসরকারি অংশীদারদের ওপর।
অন্যদিকে, ঢাকার অদূরে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (পিআইটিসি) পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগের সঙ্গে ২২ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে বছরে ৩৩ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডেল করা চট্টগ্রাম বন্দরের ৬০ শতাংশ কনটেইনারই ভবিষ্যতে হ্যান্ডেল করবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান।
তবে চুক্তির শর্তাবলি প্রকাশ না করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করায় বিষয়টিকে ‘অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করছে বিভিন্ন সংগঠন।
শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) অব্যাহত বিরোধিতার মুখেই চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালের দায়িত্ব দুই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিয়েছে সরকার।
তাই অবিলম্বে এসব চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্কপের নেতারা। তা না হলে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছেন তারা।


