গণঅভ্যুত্থানের পরে যাকে সরকারপ্রধান বানানো হয়েছে তিনি লন্ডনে গিয়ে ‘সিজদা’ দিয়ে এসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘যাকে গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারপ্রধান করা হয়েছে, উনি লন্ডনে গিয়ে সিজদা দিয়ে এসেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো ঘটনা আছে কি না অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান একটি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে প্রেস কনফারেন্স করছেন। ওইদিনই তিনি লন্ডনে সরকারকে বেচে দিয়ে এসেছেন।’
শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির অস্থায়ী কার্যালয়ে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হয়, আমরা নির্বাচন পেছাতে চাই। আরে নির্বাচনের টাইমলাইন নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। নির্বাচন নভেম্বর, ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে হোক আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু রুলস অব গেম চেঞ্জ করে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন যখনই হোক অবশ্যই সেটা গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণ নির্বাচনে খেলোয়াড়ের ভূমিকা পালন করবে আর আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করবে প্রশাসন। এ ধরনের গেম চেঞ্জের কথাই বলছে এনসিপি।’
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘আসন বণ্টনের সমঝোতার নির্বাচন আর রাতের ভোটের নির্বাচন একই, আমরা সে ধরনের নির্বাচন চাই না।’
প্রশাসনের সমালোচনা তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে দেখা যায় সচিবালয়ে ৫টায় অফিস শেষ হয়, ৪টা থেকেই গুলশান ও পল্টনে লাইন দেয়া শুরু হয়। আগে এটা ধানমন্ডি ৩২ আর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসে হতো। এটি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সুখকর নয়।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের অনেকেই আমাদেরকে শত্রুজ্ঞান করে। কিন্তু কোনো লাভ নেই। কারণ, ৫ আগস্টের পর আপনি যদি মনে করেন এই দিনটি যে কারণে হয়েছে সেই কারণগুলোকে বিদ্যমান রেখে আপনি একটা নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে যাবেন তাহলে আপনি আরও একটি গণপ্রতিরোধের শিকার হবেন।’
মিডিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গণঅভ্যত্থানের প্রথম সারির নেতাদের চরিত্র হরণের কাজ করছে বলেও এ সময় অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘মিডিয়া দিয়ে চরিত্র হনন করেও কেনা যাবে না।’
‘একজন রাজনীতিবিদ বলেছেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নাকি আমরা টাকা নিয়েছি। আমি আপনাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে বললাম যার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি তাদের কেউ এসে সাক্ষ্য দিক যে তারা আমাদের কাছ থেকে টাকা দিয়েছে। অথবা এটার নথিপত্র থাকবে। একটা প্রমাণ যদি পাওয়া যায় হাসনাত আব্দুল্লাহ বা তার সহযোদ্ধারা দুর্নীতি করেছে আমরা রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেব,’ যোগ করেন তিনি।


