ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) ডাটাবেজের সহায়তা নিতে ফের উদ্যোগী হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে সংস্থাটির কাছে সরাসরি সার্ভার ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হলেও এবার অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) নেওয়ার কথা ভাবছে ইসি।
সোমবার ইসি কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউএনএইচসিআরের ডাটাবেজে এপিআই পেলে সহজেই রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা যাবে। কারণ তাদের ডাটাবেজে মিয়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের তথ্য রয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করলে সন্দেহ হলেই এপিআইয়ের মাধ্যমে যাচাই করা যাবে।
গত বছর জাতিসংঘের কাছে পুরো ডাটাবেজ নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলো কমিশন। তবে তা সরকার নাকি ইসির কাছে থাকবে, সেই টানাপড়েনের মধ্যে পড়ে উদ্যোগটি থমকে যায়। ফলে নতুন করে এখন এপিআই নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সোমবার ইসি সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ইউএনএইচসিআরকে আমরা চিঠি দিচ্ছি। গত বছর পাইনি। এ কারণে আবারও চিঠি দেওয়া হচ্ছে।’
জানা গেছে, ইউএনএইচসিআরের কাছে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জন রোহিঙ্গার তথ্য রয়েছে। রোহিঙ্গারা দেশের সমতলেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বিয়ে করে, কেউ কেউ দালালদের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে এনআইডি হাতিয়ে নিচ্ছে। পরবর্তীতে কেউ কেউ পাসপোর্ট করে বিদেশে গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।
তাই চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৩২ উপজেলাকে এরই মধ্যে বিশেষ উপজেলা ঘোষণা করে, বিশেষ পদ্ধতি ও কমিটির যাচাইয়ের মাধ্যমে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করছে নির্বাচন কমিশন।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের কেউ ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করলে ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ফেলা হয় আবেদন। দুটি ক্যাটাগরির কোনটিতেই চিহ্নিত না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদন ‘সি’ ক্যাটাগরি বা বিশেষ কমিটির কাছে যায় আবেদনগুলো।


