রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার গবেষণায় চিকিৎসার নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ম্যারি ব্রাঙ্কো ও ফ্রেড রামসডেল এবং জাপানের সিমন সাকাগুচি।
সোমবার সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট এবারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কেমন করে নিজের অঙ্গপ্রতঙ্গের ক্ষতি না করে জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেয়, সেই কৌশল উদঘাটনের স্বীকৃতিতে এই তিন গবেষক চিকিৎসায় নোবেল পেলেন।
নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বাবদ ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে দেওয়া হবে এই তিন বিজ্ঞানীকে।
ম্যারি ব্রাঙ্কো ১৯৬১ সালে গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। সিয়াটল ইউএসএ-এ ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজিতে সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
এদিকে, ফ্রেড রামসডেল ১৯৬০ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ১৯৮৭ সালে পিএইচডি অর্জন করেন তিনি। ইউএসএ-এ সোনোমা বায়োথেরাপিউটিকস-এর বৈজ্ঞানিক পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
অন্যদিকে, শিমন সাকাগুচির জন্ম ১৯৫১ সালে। জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এমডি এবং ১৯৮৩ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিউনোলজি ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারে ডিস্টিঙ্গুইশড প্রফেসর হিসেবে কাজ করছেন তিনি।
নোবেল পুরস্কার জুরি বোর্ডের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাদের গবেষণা একটি নতুন ক্ষেত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। তাদের আবিষ্কার সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনে সহায়ক হতে পারে, এমনকি এটি ভবিষ্যতে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে।
৭৪ বছর বয়সী সাকাগুচি ১৯৯৫ সালে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার করেন। সে সময় অনেক গবেষক মনে করতেন, ‘সেন্ট্রাল টলারেন্স’ নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিকর ইমিউন কোষ থাইমাসে ধ্বংস হওয়ার কারণেই ইমিউন টলারেন্স তৈরি হয়। তবে সাকাগুচি তার গবেষণায় দেখান, ইমিউন সিস্টেম আরও জটিল এবং তিনি এমন এক নতুন শ্রেণির ইমিউন কোষ আবিষ্কার করেন, যা দেহকে অটোইমিউন রোগ থেকে রক্ষা করে।
ব্রাঙ্কো ও রামসডেল ২০০১ সালে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেন। তারা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হন কেন কিছু ইঁদুর বিশেষভাবে অটোইমিউন রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। জুরি বোর্ড জানায়, তারা আবিষ্কার করেছেন, ওই ইঁদুরগুলোর জিনে একটি মিউটেশন রয়েছে, যার নাম তারা দিয়েছেন ‘ফক্সপ৩’। তারা দেখান, মানুষের শরীরে এ জিনের সমতুল্য মিউটেশন হলে মারাত্মক অটোইমিউন রোগ ‘আইপিইএক্স’ দেখা দেয়।
দুই বছর পর সাকাগুচি এই আবিষ্কারের সঙ্গে নিজের আবিষ্কারকে যুক্ত করেন, যা বর্তমান চিকিৎসা ক্ষেত্রের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
২০২৪ সালে চিকিৎসায় নোবেল পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক ভিক্টর অ্যাম্ব্রস ও গ্যারি রাভকুন। মাইক্রো আরএনএ আবিষ্কার এবং জিনের অভিব্যক্তি নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকার ওপর আলো ফেলার স্বীকৃতিতে তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
চিকিৎসা শাস্ত্রের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়েই এবারের নোবেল পর্ব শুরু হল। মঙ্গলবার পদার্থবিদ্যা, বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য এবং শুক্রবার শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
১৩ অক্টোবর অর্থনীতি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নোবেল কমিটি।


