ক্রিকেটে মাঝেমধ্যে এমন সব দিন আসে, কোনো ক্রিকেটার যা করতে চান, যেভাবেই করতে চান না কেন, হিসেব মিলেই যায়। এই যেমন পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান। শ্রীলংকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের বাঁচা-মরার ম্যাচে যেভাবে খেলতে চেয়েছেন ঠিক সেভাবেই পেরেছেন। অফ স্টাম্পের বাইরের বলেও এমন শটে সীমানা পার করেছেন, দেখে বসতে হয়েছে নড়েচড়ে।
শনিবার পাল্লেকেলেতে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে লংকান বোলারদের ওপর রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দিয়েছেন ফারহান। প্রথম ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে করেছেন দুই সেঞ্চুরি। এমনিতে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দুটি সেঞ্চুরি আছে ক্রিস গেইলের, তাও ভিন্ন আসর মিলিয়ে। ফারহান সেই রেকর্ড ছুঁলেন এক আসরেই। প্রথমটা পেয়েছিলেন নামিবিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। ৬০ বলে ১০০ রানে থেমেছেন ৯ চার ও ৫ ছক্কায়।
এই বিধ্বংসী রূপে আবির্ভূত হওয়ার কারণও আছে অবশ্য। নেট রান রেটে নিউজিল্যান্ডের চেয়ে পিছিয়ে থাকায় শ্রীলংকাকে হারাতে হতো কমপক্ষে একটি নির্দিষ্ট রানের ব্যবধানে অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ বল হাতে রেখে। যেহেতু পাকিস্তান আগে ব্যাট করেছে, তাই সমীকরণ ছিল লংকানদের কমপক্ষে ৬৪ রানের ব্যবধানে হারাতে হবে। টিকে থাকার লড়াইয়ে ফারহানের সেঞ্চুরির সাথে এক ম্যাচ পর একাদশে ফেরা ফখর জামানের ৪২ বলে ৮৪ রানের ইনিংসে ৮ উইকেটে ২১২ রান করেছে পাকিস্তান।
নেট রান রেটে নিউজিল্যান্ডকে টপকে পাকিস্তান যদি সেমিতে যেতে চায়, তাহলে শ্রীলংকাকে আটকাতে হবে ১৪৭ রানের মধ্যে। যদি টানা দুই ম্যাচ হারা শ্রীলংকা ১৪৮ রান করে ফেলে, তাহলে সেমিফাইনালে উঠে যাবে নিউজিল্যান্ড।
সমীকরণ আর হিসেব নিকেশের ম্যাচে আরো একটা কিছু রেকর্ডে বসেছে পাকিস্তানের নাম। ফিন অ্যালেন-টম সাইফার্টের ১৭৫ রানের জুটিকে টপকে ফারহান-ফখরের ১৭৬ এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওপেনিগ জুটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এর সাথে সেঞ্চুরির পথে ফারহান পেছনে ফেলেছেন বিরাট কোহলিকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ৩৮৩ রানের রেকর্ড এখন এই ডানহাতি ওপেনারের। ২০১৪ সালের আসরে ৩১৯ রান করে এতদিন এক আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে শীর্ষে ছিলেন কোহলি।


