প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, কর্ণফুলী টানেল এবং পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিগত সরকারের আমলে হওয়া ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেছেন।
সোমবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের এক সভায় তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে, তখন প্রতিটি সেক্টরই অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম তার কাছে ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩৮টি অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন, যেখানে উন্নয়নের নামে অর্থ লোপাটের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুর্নীতির উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিএজির তদন্ত অনুযায়ী সেখানে বিদেশিদের জন্য তৈরি করা কোয়ার্টারে একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া যে ড্রেসিং টেবিলের বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা হতে পারে, তার দাম দেখানো হয়েছে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পার্শ্ববর্তী দেশে এই ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও বাংলাদেশে রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা।
কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের অনিয়ম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টানেলের দুই পাশে গাছ লাগানোর জন্য বরাদ্দ করা ৫০ কোটি টাকা কোনো কাজ না করেই তুলে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া টানেলের পাশে প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই কয়েকশত কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাসবেহুল অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা হয়েছে।
পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে তিনি তুলনা করে বলেন, সমজাতীয় সেতু প্রতিবেশী দেশে অনেক কম খরচে নির্মিত হলেও পদ্মা সেতুতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫৪ থেকে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এই অতিরিক্ত ঋণের বোঝা দেশের ২০ কোটি মানুষের ওপর চেপে বসেছে।
আঞ্চলিক পর্যায়ে দুর্নীতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি পিরোজপুর ও পটুয়াখালী জেলার উদাহরণ দেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এলজিআরডির একটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, শুধুমাত্র কাগজ দেখিয়ে একটি মন্ত্রণালয় থেকেই ৩৫ হাজার কোটি টাকা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি জেলাতেই বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে আরও প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
তারেক রহমান বলেন, যদি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দুর্নীতি ও অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় না হতো, তবে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও অনেক বেশি উন্নয়ন করা সম্ভব হতো।
তিনি স্পষ্ট করেন, কাউকে রাজনৈতিকভাবে দোষারোপ করার জন্য নয় বরং দেশের বাস্তব পরিস্থিতি ও জনগণের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি এই সত্যগুলো তুলে ধরছেন।
এই প্রতিকূলতার মধ্যেও সরকার সাধ্যমতো জনগণের সমস্যা সমাধানের এবং বিভিন্ন বাহিনীর আবাসন ও আইটিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন, যোগ করেন তিনি।


