সুনামগঞ্জের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া ওই প্রার্থীর নাম হোসাইন আহমেদ।
মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর ইমেইলে পাঠানো এক লিখিত অভিযোগপত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, অনিয়ম-দুর্নীতি ও ইচ্ছাকৃত অসহযোগিতার অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগপত্রে হোসাইন আহমেদ বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শতকরা এক ভাগ ভোটারের সমর্থন তালিকায় দৈবচয়নের মাধ্যমে যাচাইয়ে অসঙ্গতির অভিযোগে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে আমি বাতিল আদেশের সার্টিফাইড কপি চাইলে তা দেওয়া হয়। কিন্তু আদেশে শুধুমাত্র অসঙ্গতিপূর্ণ ক্রমিক নম্বর উল্লেখ আছে। ভোটারের তথ্য (নাম, ঠিকানা, ভোটার নম্বর) সাক্ষরের সত্যতা বা যাচাই রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়নি।’
এ ধরনের তথ্য আপিলে আইনি যুক্তি উপস্থাপন এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় বলেও উল্লেখ করে হোসাইন আহমেদ।
অভিযোগপত্রে তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেনের মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি। তাদের শতকরা এক ভাগ ভোটার সমর্থন তালিকা, যাচাই রিপোর্ট বা বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আদস
ন করলেও তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র চারজন প্রার্থীর মধ্যে সকল প্রার্থীর যাচাই-বাছাই আদেশ ঘোষণার সময় বাতিলকৃত প্রার্থীদের জন্য এক শতাংশ ভোটার সমর্থন যাচাইয়ের দৈবচয়ন পদ্ধতির প্রয়োগের কথা স্পষ্টভাবে বলা হলেও বৈধ ঘোষিত একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের ক্ষেত্রে দৈবচয়ন পদ্ধতি প্রয়োগের বিষয়ে কোনো শব্দও প্রকাশ করা হয়নি।’
এ ছাড়া আপিলের সময়সীমা অত্যন্ত সীমিত করার মাধ্যমে তার আপিল প্রস্তুতিকে বিলম্বিত করেছে যা ইচ্ছাকৃত ষড়যন্ত্র ও বড় রকমের দুর্নীতির প্রমাণ বলে দাবি করেন হোসাইন আহমেদ।
অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তার সব আবেদন নেওয়ার আদেশ দিতে সিইসির প্রতি দাবি জানান তিনি। বাতিল আদেশের বিস্তারিত যাচাই রিপোর্ট, ভোটার তথ্য ও প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর যাচাই তথ্য অবিলম্বে জানানোরও দাবি করেন তিনি।
সেই সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির মাধ্যমে পূর্ণ তদন্ত গ্রহণ এবং তদন্ত রিপোর্ট জাতীয়ভাবে গ্রহণেরও দাবি জানান হোসাইন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানে অসহযোগীতা, স্বজনপ্রীতি ও নানা অনিয়ম উল্লেখ করে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর ইমেইলে লিখিত অভিযোগপত্র পাঠিয়েছি। আগামী বৃহস্পতিবার আমার মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময়ে এই অভিযোগপত্রের হার্ডকপিও দাখিল করব। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন আমাকে সহযোগিতা করবে এমনটাই প্রত্যাশা করি।’
এ বিষয়ে জানতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসিয়াল নাম্বারে একাধিক কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


