শিশু ও নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শক্তিশালী করতে সরকার আগামী ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে কোনো ভ্যাকসিনের ঘাটতি নেই এবং আগামী ১০ মের মধ্যে আরও এক কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে।’
বুধবার রাজধানী ঢাকার শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন বুঝে নেওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল করে আবারও ইউনিসেফের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভ্যাকসিন সরবরাহ ও বর্তমান স্টক
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সরকার এরইমধ্যে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে পরিশোধ করেছে। বিনিময়ে ১০ ধরনের ভ্যাকসিনের ৯৫ মিলিয়ন ডোজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। গত ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখের বেশি আইপিভি ভ্যাকসিন আসার পর বুধবার আরও ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং টিডি ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছেছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আগামী ১০ মের মধ্যে আরও প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি ও পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউনিসেফ সম্পূর্ণ সরবরাহ শেষ করবে।’
বর্তমানে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে এবং নতুন সরবরাহের ফলে আগামী এক বছর ভ্যাকসিনের কোনো সংকট হবে না বলেও জানান তিনি।
হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ও সাফল্য
বর্তমানে চলমান ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ১৯ এপ্রিলের পরিবর্তে ৫ এপ্রিল থেকেই এই ক্যাম্পেইন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। ৫ মে পর্যন্ত এক কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৬০৫ জন শিশু টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ।
সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘ইপিআই বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি সফল কর্মসূচি এবং গ্যাভি আমাদের “ভ্যাকসিন হিরো” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি বছর এই প্রোগ্রাম প্রায় এক লাখ শিশুর মৃত্যু এবং ৫০ লাখ রোগ প্রতিরোধ করে।’
নীতিনির্ধারণী পরিবর্তন
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগের সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এই সফল প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে ওপেন টেন্ডার বাতিল করে ইউনিসেফকে সরবরাহের অনুরোধ করি।’
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওই ১৫ মাসের মধ্যে তিন মাসের বাফার স্টক থাকবে।’
জনসচেতনতার আহ্বান
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে অভিভাবক, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনারা শিশুদের এক ডোজ এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করুন। ইনশাআল্লাহ আমরা শতভাগ কভারেজ অর্জনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।’
হাম-রুবেলাসহ সংক্রামক ভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করায় মন্ত্রী গ্যাভি, ইউনিসেফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ সব উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহে সহযোগিতার জন্য ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি।


