‘রাষ্ট্রপতি একটি প্রতিষ্ঠান, প্রয়োজনেই সেটাকে রক্ষা করেছি’

‘রাষ্ট্রপতি একটি প্রতিষ্ঠান, প্রয়োজনেই সেটাকে রক্ষা করেছি’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জামায়াত বলেছে আমাদের চেহারা বদলে গেছে; কিন্তু না, আমাদের চেহারা বদলায়নি, বরং তারাই হঠাৎ বদলে গেছে।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, ৫ আগস্টের পর তারা বলছেন আমাদের চেহারা বদলে গেছে। আমাদের চেহারা বদলায়নি; তারা হঠাৎ করেই বদলে গেছেন। মনে হচ্ছে তারা ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত পেয়ে গেছেন এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সবকিছু প্রস্তুত হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘তখন তারা বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যেসব উক্তি করেছেন, সেগুলো গণতন্ত্রকে সাহায্য করেনি। আজকের এই দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার একটি কারণ ছিল আপনাদের নির্বাচনকে অস্বীকার করা। আপনারা বলছেন নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে; এটি কেউ মেনে নেবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণহত্যা চলাকালে স্বাধীনতার ঘোষক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে যিনি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, যিনি সেই সময়ে বাংলাদেশি সেনাদের সঙ্গে নিয়ে সমস্ত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে যুদ্ধে নেমেছিলেন, তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন

‘আমাদের এক সম্মানিত সদস্য বলেছেন, আমি সংবিধান সমুন্নত রাখার চেষ্টা করেছি এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে সেটি প্রমাণ করতে চেয়েছি। কারণ, এই সংবিধান আমাদের অস্তিত্ব ও আবেগের সঙ্গে জড়িত; এই সংবিধান ১৯৭১ সালের লাখ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে জড়িত,’যোগ করেন তিনি।

এলজিআরডি মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই সংবিধানের অনেকগুলো অনুচ্ছেদ ও অধ্যায় আছে, যা বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে। এই সংবিধানকে কেটে এক প্রকার ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। অথচ এই সংবিধানের জন্যই আমরা যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সালাউদ্দিন আহমদ অত্যন্ত সত্য কথা বলেছেন, আমরা রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কথা বলছি, তবে রাষ্ট্রপতি যিনিই হোন না কেন, তিনি কোনো ব্যক্তি নন, বরং একটি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানটিকেই আমরা আমাদের প্রয়োজনে রক্ষা করেছি। কারণ, ৫ আগস্টের পর যদি রাষ্ট্রপতি না থাকতেন, তবে রাষ্ট্রে চরম অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হতো। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস আমরা হৃদয়ে ধারণ করি, দেশের সব মানুষই তা ধারণ করে।’

লন্ডন বৈঠক প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘লন্ডনে আমাদের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে যে ঐতিহাসিক বৈঠক হয়েছে, সেটি নিয়ে তারা বিদ্রূপ ও কটাক্ষ করে বলছেন সেখানে নাকি কোনো ষড়যন্ত্র হয়েছে। এর ফলে বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বসে আছে-এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কথা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। লন্ডন বৈঠক হয়েছিল বলেই আমরা এখানে বসতে পেরেছি। কারণ, ওই বৈঠকেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা দ্রুত ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন দিতে রাজি হয়েছিলেন। এটিই বাস্তবতা এবং এটি সকলকে স্বীকার করতে হবে।’

‘আমাদের সংস্কারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংসদে পোস্টার নিয়ে এসে বলা হচ্ছে আমরা সংস্কার চাই না। অথচ আমরাই তো সংস্কারের মূল উদ্যোক্তা,’ যোগ করেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad