কক্সবাজারে বন্যহাতির আক্রমণে মা ও তিন বছরের শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন একই এলাকার একরাম মিয়ার স্ত্রী ছেমন আরা (২৫) ও তাদের শিশুকন্যা আসমা বিবি (৩)।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ভোরের দিকে হঠাৎ তিনটি বন্যহাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তেই হাতিগুলো ঘরের বেড়া ভেঙে, গাছ উপড়ে তান্ডব শুরু করে। এ সময় চারদিকে মানুষের চিৎকারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী বেলাল উদ্দিন জানান, শব্দ শুনে একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঘর থেকে বের হন। সে মুহূর্তে দুটি হাতি তাদের দিকে তেড়ে আসে। প্রাণ বাঁচাতে একরাম ছয় বছরের ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে পেছনের দিকে সরে যান। কিন্তু ছেমন আরা ও তার ছোট মেয়ে আসমা হাতির আক্রমণে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল বলেন, ‘হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় নিহতদের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। আক্রমণের পর হাতিরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছের ফল খেয়ে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।’
সম্প্রতি খাবারের সন্ধানে বন্যহাতির পালটি খুনিয়াপালং ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত বিচরণ করছে। এতে পুরো এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে।
বন বিভাগের রামুর ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা তোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘ঘটনার পর হাতির পালটিকে গভীর বনে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।’
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।


