জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কাছে শপথের সময় দেশে কার্যত কোনো সরকার ছিল না এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছিল।
রোববার বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সেই সময় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের জন্য তখন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
হাসনাত বলেন, পরে ঐকমত্য কমিশন গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে ৮ আগস্টের পরিস্থিতির সঙ্গে জোর করে তুলনা করা হলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। গণভোটের রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিএনপি নেতাদের সমালোচনাও করেন তিনি।
গণভোটে ৬৮ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে ম্যান্ডেট দেওয়ার পরও সেটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা জনগণের রায়কে উপহাস করার শামিল, বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, গণভোটে ৬৮ শতাংশ মানুষ তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন সেই ম্যান্ডেটকে উপহাস করেছেন। তিনি বলেছেন, যারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়েছে তারা পরে দিয়েছে কি না—এটা নিয়ে সংশয় আছে। অর্থাৎ তিনি মানুষের রাজনৈতিক বোধকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
বিএনপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি গণভোটের পক্ষে তারেক রহমান প্রচার চালিয়েছেন। কিন্তু এখন আবার বলা হচ্ছে বিদ্যমান ৭২-এর সংবিধান রেখেই পুরো প্রক্রিয়া এগোবে। এটি এক ধরনের দ্বিচারিতা।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন, যেদিন জনতার সরকার সংসদে আসবে সেদিন এই সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে। কিন্তু এখন সংবিধানের প্রতি যে আন্তরিকতা দেখানো হচ্ছে, তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের বক্তব্যেরও মিল পাওয়া যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ও গণভোট প্রসঙ্গেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, গণভোটের রায়কে যদি অসাংবিধানিক বলা হয়, তাহলে নির্বাচনের গণভোটকে অসাংবিধানিক আর সংসদীয় নির্বাচনকে সাংবিধানিক বলা–এই অবস্থান স্পষ্ট নয়।


