আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যেসব মামলার রায় হয়েছে, সেগুলোতে কোনো অনিয়ম থাকলে, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে যেগুলো রায় হয়ে গেছে, সবগুলাই দেখবার সুযোগ হয়নি; তবে সবগুলোই দেখব, যেগুলো বিচার হয়ে গেছে; সেই ফাইলগুলোর বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে হলে নেব।’
মঙ্গলবার চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইতোমধ্যে যেসব মামলার রায় হয়েছে, সেগুলো কি আবার ট্রায়ালে (বিচার) আনার কোনো সুযোগ আছে? এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউর জানান, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে ২৪টি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, ২১টিতে বিচার চলছে। ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি এই কেসগুলোর বিষয়বস্তু আমি এখনো দেখিনি। আমি বিষয়টি পর্যালোচনা করব, ফরমাল চার্জগুলো ঠিক হয়েছে কি না, ইনভেস্টিগেশনগুলো যথার্থ হয়েছে কি না, সবকিছু দেখব। যদি কোনো বিষয়ে আমার কাছে মনে হয়, তদন্ত যথাযথ হয়নি। আমি বিশ্বাস করি হয়েছে সবকিছুই। এ রকম কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি যদি আমার কাছে পরিলক্ষিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।’
সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বাধীন টিমের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি তো তাদের অনেকটা সাফল্যই দেখতে পাচ্ছি। কারণ, ইতোমধ্যে ২৪ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে, যার মধ্যে ২১টি বিচার পর্যায়ে আছে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি আরও অনেকগুলো মামলা ইনভেস্টিগেশনে আছে এবং তারা কাজ করে যাচ্ছে। কাজ করার ক্ষেত্রে ভুল বা অনিয়ম হলে আমরা দেখব। কিন্তু একেবারে কাজ হয়নি এটা বলা ঠিক হবে না, এটা অবিচার হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আইন অনুযায়ী এই ট্রাইবুনালটা পরিচালিত হোক, এবং এই ট্রাইবুনালের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাক, আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে এই ট্রাইবুনালের কার্যক্রম পরিচালিত হোক। এই ট্রাইবুনালে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী, যাতে এই মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি হয়, সে বিষয়ে আমরা (প্রসিকিউশনে) আলাপ-আলোচনা করেছি, কীভাবে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করানো যায়। আমরা একমত হয়েছি, এই মামলাগুলো খুব দ্রুতই বিচারকার্য যাতে শুরু হয়, সে বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’
প্রসিকিউটর তামিমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ আমাকে তদন্ত করে দেখতে হবে, আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, প্রসিকিউশনের কেউ কোন ধরনের করাপশনে জড়িত থাকলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রমাণ করে দেব যে, এই ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণরূপে করাপশন ফ্রি, এখানে আন্তর্জাতিক মানের বিচার হচ্ছে। এখানে বিচারের বাইরে অন্য কোন আলোচনা আমরা প্রশ্রয় দেব না।’


