রাজধানীর ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি আশা করেন উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে।
রোববার শিশু রামিসা হত্যার রায় ঘোষণার পর দুপুর ১২টার দিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। বিচার শুরু থেকে রায় ঘোষণায় সময় লেগেছে কেবল পাঁচদিন।’
‘আমরা দ্রুত বিচারকাজ শেষ করতে সক্ষম হয়েছি, বাংলাদেশে এটা প্রথম। আশাকরি উচ্চ আদালতে এই আদেশ বহাল থাকবে’, যোগ করেন আসাদুজ্জামান।
এ সময় তিনি জানান, শিশু রামিসাকে ধর্রষণ ও হত্যার ঘটনার মামলার পাশাপাশি শিশু আছিয়া, রাকিবসহ অপেক্ষমান সব স্পর্শকাতর মামলা দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উচ্চ আদালতে এসব মামলার দীর্ঘসূত্রিতা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার অনেক বিষয় থাকে। এখান থেকে এই মামলার নথি যাবে উচ্চ আদালতে, সেখান থেকে বিধি অনুসারে এ সব মামলায় পেপারবুক তৈরি করতে হয়। এসব সুপ্রিমকোর্টের তত্ত্বাবধায়নেই হয়। এরপর সুপ্রিমকোর্ট সিরিয়াল অনুসারে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করে।’
রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও তথ্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা ও স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হয়। তখন স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। পরে রামিসার বাবা-মা ও অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। শিশুটির মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে রাখা ছিল।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ২০ মে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।


