নাহিদ রানার আগুনে স্পেলে অর্ধেক কাজ করেই রেখেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাকি কাজটা সারালেন তানজিদ হাসান তামিম। বুধবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ১১৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তানজিদের ঝড়ো ফিফটিতে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। ২০৯ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলেন মেহেদী হাসান মিরাজরা।
তানজিদের সাথে ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ফেরেন সাইফ হাসান। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদের সাথে ৬৭ বলে ৮২ রানের জুটি গড়েন শান্ত। এই জুটিতেই ম্যাচ চলে আসে একদম হাতের নাগালে। ৩২ বলে নিজের পঞ্চম ফিফটি ছুঁয়েছেন তানজিদ। ম্যাচ শেষে অপরাজিত ছিলেন ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৭ রানে। শান্ত্র ব্যাট থেকে আসে ৩৩ বলে ২৭ রানের ইনিংস।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পেলেও নাহিদের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৬৯ রানের মধ্যেই প্রথম পাঁচ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৭ ওভারের টানা স্পেলে ২৪ রানে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের দিনে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে কোনো ম্যাচে প্রতিপক্ষের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের উইকেট নিলেন নাহিদ। প্রথম পাঁচ ব্যাটার না হলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গত বছর প্রথম পাঁচ উইকেটের সবকটি একাই নেন রিশাদ হোসেন।
নাহিদ একে একে নিয়েছেন ফারহান, শামিল হুসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার উইকেট। বাকি পাঁচ উইকেট নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করেছেন তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০ ওভারে ২৯ রানে ৩ উইকেট নেন মিরাজ। বোলারদের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহে গুটিয়েছে পাকিস্তান।
এদিকে নাহিদের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ ম্যাচে ছিল মোট ৫ উইকেট। এবার ষষ্ঠ ম্যাচে প্রথম ৫ ওভারেই তিনি নিলেন ৫টি উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পাওয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার তিনি। এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।
এছাড়া মিরপুরে প্রায় ১১ বছর পর ৫ উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার। এর আগে ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজ। নাহিদের আগে দেশের মাঠে পেসারদের মধ্যে সবশেষ ৫ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ। ২০২৩ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন তরুণ পেসার।


