রাঙামাটিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজে নিয়োজিত একটি ট্রাক উল্টে কেমি চাকমা (৩৮) নামে এক নারী পথচারী নিহত হয়েছেন।
শনিবার সকালে আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের লেমুছড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কেমি চাকমা আসামবস্তি ক্যপ্পোপাড়া এলাকার চন্দন মারমার সহধর্মিণী।
স্থানীয় বাসিন্দা বৈশাখী চাকমা জানান, এদিন সকালে কেমি চাকমা বাড়ি থেকে কী কারণে বের হয়েছিলেন তা জানা নেই। তবে রাস্তায় হাঁটার সময় বেপরোয়া গতিতে একটি ট্রাক এসে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকে থাকা পানির ট্যাংক তার মাথার অংশের ওপর পড়ে যায়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নতুন পাইপলাইন স্থাপন কাজের সঙ্গে নিয়োজিত ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজে নিয়োজিত গাড়িগুলো দিনে ও রাতে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। পাইপলাইন স্থাপনের কাজে অনিয়ম তো হচ্ছেই, এসব দেখার যেন কেউ নেই।
রাঙামাটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বড়ুয়া বলেন, ‘শনিবার সকালে আসামবস্তি সড়কে পানির পাইপলাইন স্থাপনের কাজে যে ট্রাকটি ছিল, সেটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজে নিয়োজিত ছিল। তবে ট্রাকটি দপ্তরের নিজস্ব নয়। এটি মনিরের ট্রাক। ওই রুটের কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনির কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড দেখাশোনা করছে।’
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শওকত আকবর খান বলেন, ‘আহত কেমি চাকমাকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। সম্ভবত ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়েছে।’
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ট্রাকে থাকা পানির ট্যাংকের চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়। ট্রাকটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের ছিল। চালক পলাতক ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে।’
নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।


