শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সমবেত আন্দোলনকারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজনৈতিক মঞ্চ নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)।
শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে এ ধরনের সহিংসতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
এনপিএর মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, তুহিন খান এবং ফেরদৌস আরা রুমি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন মহল থেকে পরিস্থিতি ঘোলা করে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠছে, এবং এ বিষয়ে সরকারের ভেতরের কোনো অংশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা বা মদদ নেই—এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই।
রাজনৈতিক সমাবেশ মোকাবিলায় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে এনপিএ বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংযম, সংলাপ ও বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বলপ্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনের কৌশল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব, তবে বিচার দাবিকে কেন্দ্র করে দমন-পীড়ন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং ভীতি প্রদর্শন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এবং জনবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এনপিএ আরও সতর্ক করে বলেছে, শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবিকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে তা ন্যায়বিচারের লড়াইকে দুর্বল করবে, এবং যারা আন্তরিকভাবে এই বিচারের দাবি করেন, তাদের সজাগ থাকতে হবে যেন এই ন্যায়সঙ্গত দাবি কোনো গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক স্বার্থের হাতিয়ারে পরিণত না হয়।
সহিংসতা ও দমনের পরিবর্তে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ভয়ভীতি-মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এনপিএ তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে।
সংগঠনটি বলেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
একই সঙ্গে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ ও দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে দমন-পীড়ন বন্ধ করে স্বাভাবিক, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের উসকানি বা ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এনপিএ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সংযম ও সহনশীলতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তৃতীয় কোনো শক্তির ষড়যন্ত্রে নির্বাচন বানচালের সুযোগ সৃষ্টি না হয়।


