ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তী নায়ক থালাইভা রজনীকান্ত। কেবল তামিল নয়, সমগ্র ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে রজনীকান্ত একটি আবেগের নাম। তার জন্মদিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর)। সুপারস্টার এ নায়ক ৭৫ বছর বয়সে পা দিলেন।
রজনীকান্তের জীবন কাহিনি যেকোনো চিত্রনাট্যের চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়। বেঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণকারী শিবাজি রাও গায়কোয়াড় একসময় কুলির কাজ করেছেন, পরে বাস কন্ডাক্টর হিসেবে জীবন শুরু করেন। সেই সাধারণ জীবন থেকে রূপালী পর্দার ‘সুপারস্টার’ হয়ে ওঠার জার্নিটি যেন প্রমাণ করে—প্রতিভা আর অধ্যাবসায় থাকলে কোনো স্বপ্নই অধরা থাকে না।
১৯৭৫ সালে প্রখ্যাত পরিচালক কে. বালাচন্দরের ‘অপূর্ব রাগঙ্গল’ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিষেক ঘটে। প্রথমদিকে খলনায়ক বা পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করলেও, তার নিজস্ব স্টাইল এবং স্ক্রিন প্রেজেন্স খুব দ্রুত তাকে মূল স্রোতে নিয়ে আসে।
রজনীকান্তের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তার অনন্য স্টাইল এবং ম্যানারিজম। চশমা ঘোরানো, সিগারেট ধরার বিশেষ ভঙ্গি, দ্রুত হাঁটার স্টাইল এবং সংলাপ বলার নিজস্বতা—এগুলোই তাকে ‘থালাইভা’ বানিয়েছে। তার সিনেমা মানেই বক্স অফিসে সুনামি। ‘শিবাজি’, ‘এন্থিরান’, ‘পেটা’, ‘জেলার’-এর মতো সিনেমাগুলি তার জনপ্রিয়তার সাক্ষ্য বহন করে। অ্যাকশন, কমেডি, রোমান্স—সব ধরনের চরিত্রেই তিনি সাবলীল।
পর্দার বাইরে রজনীকান্ত একজন অত্যন্ত বিনয়ী এবং আধ্যাত্মিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। বিলাসবহুল জীবনযাপন এড়িয়ে চলেন এবং প্রায়শই সাধারণ পোশাকে অনুরাগীদের সামনে আসেন। তার এই সরলতা এবং মাটির কাছাকাছি থাকার মানসিকতা তাকে দর্শকদের কাছে আরও প্রিয় করে তুলেছে।
দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে সেবা দিয়ে আসছেন এই মহাতারকা। তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘পদ্মভূষণ’ ও ‘পদ্মবিভূষণ’-এর মতো ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা এবং চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
এখনও ভক্তরা তার ছবি মুক্তি পেলে বিশাল লাইন দিয়ে টিকেট কাটে। তার পূজা দেওয়া হয় অনেক জায়গায়। বহু বছর হয়েছে কোন ছবিতে তাকে মরতে দেখানো হয় না। কারণ তার ভক্তরা তা মানতে পারে না। তাদের কাছে তিনি এক, অনন্য। তিনি ভারতীয় সিনেমার সত্যিকারের সুপারস্টার।


