ভারতের দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জুনের শেষ দিকে দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে পুলিশ বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ও পেলেট ছোড়ার বন্দুকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি বলেছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং যাচাই করা দৃশ্যমান প্রমাণে (ভিডিও) দিল্লি ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারে বিক্ষোভকারীদের ওপর পেলেট ছোড়ার বন্দুক, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার যন্ত্র, গ্রেনেড, লাঠি এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গত বৃহস্পতিবার পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের উভয় পক্ষের সহিংসতার ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করার পর অ্যামনেস্টির এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।
তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই প্রতিবেদনের বিরোধিতা করেছে পুলিশ। তাদের দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই কেবল তারা বলপ্রয়োগ করেছিল।
ভারতের মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ গত ২০ জুলাই সহিংস রূপ নেয়। ওই দিন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের ডাকে হাজারও বিক্ষোভকারী ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
২০ জুলাই ভারতীয় পার্লামেন্টে বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর কথা ছিল। তবে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের কঠোর ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় দিল্লি পুলিশ।
অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিহারের সিওয়ান জেলায় পুলিশ সদস্যরা জনতার ওপর ‘অবৈধভাবে প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহারের দুটি ঘটনা তারা যাচাই করেছে। তবে এসব ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি।
মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, এসব অস্ত্র এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন, মানদণ্ড এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ পুলিশি নির্দেশনার লঙ্ঘন।
অ্যামনেস্টি আরও জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পাথর ছোড়ার কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। তবে কঠোর ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ছিল রাষ্ট্র অনুমোদিত সহিংসতা, যা বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিয়ন্ত্রণের নামে আড়াল করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত শুনানির সময় দিল্লি পুলিশ দাবি করে, বিক্ষোভকারীরা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার পরই তারা শক্তি প্রয়োগ করেছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটির দাবি, অসামাজিক ব্যক্তিরা ‘ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সেজে’ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে।
এদিকে গত শুক্রবার দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে ১৯ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ওই তরুণ দাবি করেন, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পুলিশের ছোড়া পেলেটে তিনি আহত হয়েছেন।
রাহুল গান্ধী ওই গুলিবর্ষণের ঘটনা তদন্তের দাবি জানান। পরে ওই তরুণের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি মামলা নথিভুক্ত করে।
গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
২০ জুলাই ‘পার্লামেন্ট মার্চ’ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ১১৮ জনের বেশি পুলিশ সদস্যও আহত হন।
পরে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকের পর শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপরই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় সিজেপি।


