নয় বছর আগে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা বর্তমানে পলাতক। আদালত তার অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন।
তবে সোহেল রানার মা শিউলী বেগম ও ফুফু মাজেদা বেগমকে ‘সন্দেহের অতীত প্রমাণের অভাবে’ খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম জানান, বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা নিহত সোনিয়া আক্তারের পরিবারের হাতে তুলে দিতে। পাশাপাশি পলাতক সোহেল রানার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে কামরাঙ্গীরচরের সোহেল রানা বিয়ে করেন মোছাম্মৎ সোনিয়া আক্তারকে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সোনিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন সোহেল। সংসার টিকিয়ে রাখতে তার বাবা চান মিয়া প্রথমে ৯০ হাজার টাকা দেন, তারপরও থামেনি নির্যাতন। ৫০ হাজার টাকা দাবিতে আবারও সোনিয়াকে নির্যাতন করা হয়।
২০১৬ সালের ১৭ জুলাই রাত ৩টা থেকে সকাল ৮টার মধ্যে সোহেল রানা অন্য আসামিদের সহযোগিতায় কামরাঙ্গীরচরের লোহার ব্রিজ এলাকার ইমাম আলীর গলির বাসায় সোনিয়াকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৮ জুলাই চান মিয়া কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।
একই বছরের ২৬ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর ২০১৮ সালের ৩ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ১২ সাক্ষীর জবানবন্দি শোনার পর আদালত বৃহস্পতিবার সোহেল রানাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।


