থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটছে সোমবার রাতেই। শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে দুটি দেশ। গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
সোমবার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ায় মধ্যস্থতায় এক বৈঠকের পর আনোয়ার ইব্রাহিম এ তথ্য জানান। বৈঠকে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই দেশের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকশেষে ব্রিফিংয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার নেতারা নিজেদের সীমান্ত সংঘাত বন্ধে রাজি হয়েছেন। সোমবার মধ্যরাত থেকে শর্তহীন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।’
‘কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড একটি অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছেছে। যার প্রথম শর্ত, তাৎক্ষণিক ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতি। এই যুদ্ধবিরতি সোমবার রাত ১২টা (স্থানীয় সময়) থেকে কার্যকর হবে।’
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত বলেন, ‘থাইল্যান্ডের সঙ্গে যে শর্তহীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তাতে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে।’
‘আনোয়ার ইব্রাহিমের দেওয়া সমাধানমূলক সব পদক্ষেপ আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করবে এবং সম্পর্কের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার পথ খুলে দেবে।’
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, সোমবার দুপুরের দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারি বাসভবন সেরি পেরদানায় থাই ও কম্বোডিয়ার নেতাদের গাড়িবহর পৌঁছায়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকাবাহী গাড়িও দেখা গেছে।
এর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে কুয়ালালামপুরে সাক্ষাৎ করেন থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই ও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত। এই দুই নেতার বৈঠকের সময় আকাশে বিশেষ বিমান চক্কর দিতে দেখা যায়। দুই নেতা সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টা পর চুড়ান্ত আলোচনার জন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমান্ত সংঘর্ষে লিপ্ত দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে সহসা যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়াতে এ বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তে পাঁচ দিন ধরে চলা সংঘর্ষে দুই দেশের সামরিক বাহিনী গোলাবর্ষণ, রকেট নিক্ষেপ ও গুলিবিনিময় করে। এ অবস্থায় সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে দুই লাখের বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা কয়েক ‘শ।


